
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর সৌহার্দ্য পরিবহনের সংশ্লিষ্ট বাসটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে বাসটির ফিটনেস সনদ, রুট পারমিটসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মুহাম্মদ অহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিআরটিএ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত রাজবাড়ী-ব-১১-০০২৪ নম্বরের বাসটির বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জারি করা চিঠিতে বাসটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গত ২৫ মার্চ বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযানে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আরও পাঁচজন আহত হন।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ২৪ ধারা এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২-এর ৪৬ ও ৪৭ বিধি অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিআরটিএ আরও জানায়, বাসটির নিবন্ধন সনদ, ট্যাক্সটোকেন, ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স তিন কার্যদিবসের মধ্যে রাজবাড়ী বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন বাসটির নিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা না মানলে বাসটির নিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিলসহ মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে। এ চিঠির অনুলিপি বিআরটিএ সদর দপ্তর, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়িত্বশীলতা ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং নারী-শিশুসহ মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















