ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ক্ষেতলালে সরকারি পুকুরে মাটি-বালু উত্তোলনের অভিযোগ “পোরশায় প্রেসার কুকারের আঘাতে ৫ সন্তানের জননীর মৃত্যু, স্বামী আটক” “জিরো টলারেন্সে দুর্নীতি দমন: মডেল জেলা গড়তে সাংবাদিকদের পাশে চান ডিসি” গণরায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন পত্নীতলায় দ্রুতগতির পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধ সাইকেল আরোহীর ইবি বিএনসিসির মহিউদ্দিন, সেনাবাহিনীতে জেসিও পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির রাজপথে সক্রিয় থাকবে- সভাপতি নূরুল সিইসি শপথ ভঙ্গ করেছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন সিমরিন লুবাবা খালাকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম, গ্রেপ্তার ভাগ্নে

ক্ষেতলালে সরকারি পুকুরে মাটি-বালু উত্তোলনের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় একটি সরকারি পুকুর থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উত্তর হাটশহর গ্রামের ‘মাঝিনা’ নামের পুকুরটিতে প্রায় তিন মাস ধরে প্রকাশ্যে খনন কার্যক্রম চালিয়ে মাটি ও বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে পুকুর এলাকায় গিয়ে মাটি উত্তোলনের কার্যক্রমের সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে মাটি তুলে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় মাটি এবং রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করে তা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পুকুরটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোও দ্রুত নষ্ট হয়ে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতায় এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের লোকজন এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানিয়েছেন, প্রভাবশালীদের কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, পুকুরটি সংস্কারের অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে এবং এতে কোনো ধরনের অনিয়ম নেই।

এদিকে উপজেলা বিএনপির এক নেতা জানান, পুকুরটি তিনি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছেন এবং সেখানে সংস্কার কাজ চলছে। তার দাবি, পুকুরের মাঝখানে উঁচু অংশ থাকায় পানি ধারণ ও মাছ চাষে সমস্যা হচ্ছিল, সেটি সমান করার কাজই করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, নিয়মিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। এর আগে একবার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। পুনরায় এ ধরনের কাজ হয়ে থাকলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। বিস্তারিত জেনে পরে মতামত জানাবেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে অবাধে মাটি ও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষেতলালে সরকারি পুকুরে মাটি-বালু উত্তোলনের অভিযোগ

ক্ষেতলালে সরকারি পুকুরে মাটি-বালু উত্তোলনের অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ০২:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় একটি সরকারি পুকুর থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উত্তর হাটশহর গ্রামের ‘মাঝিনা’ নামের পুকুরটিতে প্রায় তিন মাস ধরে প্রকাশ্যে খনন কার্যক্রম চালিয়ে মাটি ও বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে পুকুর এলাকায় গিয়ে মাটি উত্তোলনের কার্যক্রমের সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে মাটি তুলে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় মাটি এবং রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করে তা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পুকুরটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোও দ্রুত নষ্ট হয়ে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতায় এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের লোকজন এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানিয়েছেন, প্রভাবশালীদের কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, পুকুরটি সংস্কারের অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে এবং এতে কোনো ধরনের অনিয়ম নেই।

এদিকে উপজেলা বিএনপির এক নেতা জানান, পুকুরটি তিনি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছেন এবং সেখানে সংস্কার কাজ চলছে। তার দাবি, পুকুরের মাঝখানে উঁচু অংশ থাকায় পানি ধারণ ও মাছ চাষে সমস্যা হচ্ছিল, সেটি সমান করার কাজই করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, নিয়মিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। এর আগে একবার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। পুনরায় এ ধরনের কাজ হয়ে থাকলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। বিস্তারিত জেনে পরে মতামত জানাবেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে অবাধে মাটি ও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।