
রাজনৈতিক ভিন্নমত ভুলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালন করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্র সংগঠনগুলো। ‘সি’ ইউনিটের গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিড়ম্বনামুক্ত রাখতে প্রথম দিনের মতো সহায়তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলো। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর এমন তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক পরিচালিত তথ্য সহায়তা কেন্দ্র ও অভিভাবক কর্নার পরীক্ষার্থীদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে।
এসব বুথ থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে খাবার পানি, ওষুধ, কলম, স্যালাইন, শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী। অভিভাবকদের জন্য রয়েছে বিশ্রামের শেড, পানির ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য চকলেট ও রিডিং কর্নার।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বলেন,
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক ভিন্নমতের সংগঠনগুলো যেভাবে একসঙ্গে কাজ করছে, তা স্বস্তিদায়ক ও উৎসাহব্যঞ্জক।
আব্দুল আলিম নামের একজন অভিভাবক বলেন,
“সন্তানকে নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় এসেছি। এই প্রখর রোদের আমাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যেত। সেই জায়গায় সুন্দর বসার স্থান এবং পানির ব্যবস্থা করেছে ছাত্রসংগঠনগুলো। ছাত্র সংগঠনগুলোর এমন সহযোগিতা আমাদের দুশ্চিন্তা অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের আয়োজন খুবই ইতিবাচক।

বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসেছে। তাদেরকে আমরা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছি।
ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, পরীক্ষার্থীদের জন্য পানিসেবা, ওষুধ, ফার্স্ট এইডসহ দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা ও হালকা নাস্তার ব্যবস্থা করেছি। সেই সাথে ভর্তিচ্ছুদের জন্য দোয়া করছি তাদের মনে আশা পুরন হোক।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ বলেন, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তার জন্য আমাদের হেল্পডেস্কে ফুল, কলম, ওষুধ, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু রাখা হয়েছে। পরীক্ষার পরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও আমরা সহযোগিতা করব।”
এছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্র মজলিস ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও অভিভাবক কর্নার, ফার্স্ট এইড ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমন্বিত এই উদ্যোগ ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে তুলেছে এক সহানুভূতিশীল, সুশৃঙ্খল ও মানবিক পরিবেশ।
মোহাম্মদ সাদ, ইবি প্রতিনিধি(কুষ্টিয়া) 





















