ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ‘মুক্তবাংলা’: স্থাপত্য, ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিকতা

  • মোহাম্মদ সাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩২৮ Time View

সংগৃহীত ছবি।

কুষ্টিয়ায় অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর প্রধান ফটকের ডান পাশে ‘মুক্তবাংলা’ ভাস্কর্যটি অবস্থিত। লাল, সাদা ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে নির্মিত এই স্থাপনা ক্যাম্পাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতীয় ইতিহাস ও মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবেও ‘মুক্তবাংলা’ ভূমিকা রাখে। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি স্থাপত্যকর্ম, যা স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক হিসেবে নির্মিত।

১৯৯৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন উপাচার্য মুহাম্মাদ ইনাম-উল হক এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। বিজয় দিবসে উদ্বোধনের মাধ্যমে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য নির্ধারিত হয়।

চিত্রকর ও স্থপতি রশিদ আহমেদের নকশায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটিতে ইসলামী স্থাপত্যরীতি ও আধুনিক শিল্পধারার সমন্বয় দেখা যায়। নির্মাণে সিরামিক ইট, সাদা ও কালো পাথর এবং মোজাইক টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে।

ভাস্কর্যটির মূল কাঠামো সাতটি আর্চ বা স্তম্ভ নিয়ে গঠিত। এই সাতটি আর্চকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয় এর মধ্যে ১৯৭১ সালের অস্থায়ী সরকারের সাত সদস্যের মন্ত্রিসভার প্রতীক হিসেবে একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা রয়েছে। এছাড়া এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।

উপরের অংশে মুষ্টিবদ্ধ হাতে রাইফেলের প্রতীক সশস্ত্র সংগ্রামের দিকটি নির্দেশ করে। প্রবেশপথে স্থাপিত বৃত্তাকার কালো প্লেট সংগ্রামের স্মারক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

ভাস্কর্যটির বিভিন্ন রঙ নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে লাল সিরামিক ইট যুদ্ধ ও আন্দোলনের প্রতীক কালো পাথর শোকের প্রতীক। সাদা মোজাইক পুনর্গঠনের ধারণা নির্দেশ করে। সবুজ ও নীল টাইলস শান্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। সমগ্র কাঠামোটি অর্ধ-উদিত সূর্যের আদলে নির্মিত, যা একটি নবস্বাধীন দেশের সূচনা পর্যায়কে নির্দেশ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়েরক্ষার্থীদের জন্য ‘মুক্তবাংলা’ একটি পরিচিত স্থান। নবীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় এটি প্রথম লক্ষ্য করে। স্নাতক সম্পন্ন করার পর অনেক শিক্ষার্থী এই ভাস্কর্যের সামনে ছবি তোলে।

জাতীয় দিবস যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং শহীদ দিবসে এখানে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ফুল অর্পণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে ভাস্কর্যটি এসব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ডিজিটাল যুগে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে ‘মুক্তবাংলা’ একটি দৃশ্যমান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এটি ইতিহাস, জাতীয় পরিচয় ও মূল্যবোধের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করে।

‘মুক্তবাংলা’ ভাস্কর্যটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরিচিত ও ব্যবহৃত স্থান হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা এই স্থাপনা পরিদর্শন করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছেও এটি আকর্ষণীয় একটি স্থাপত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত।

মোহাম্মদ সাদ
শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ‘মুক্তবাংলা’: স্থাপত্য, ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিকতা

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ায় অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর প্রধান ফটকের ডান পাশে ‘মুক্তবাংলা’ ভাস্কর্যটি অবস্থিত। লাল, সাদা ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে নির্মিত এই স্থাপনা ক্যাম্পাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতীয় ইতিহাস ও মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবেও ‘মুক্তবাংলা’ ভূমিকা রাখে। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি স্থাপত্যকর্ম, যা স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক হিসেবে নির্মিত।

১৯৯৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন উপাচার্য মুহাম্মাদ ইনাম-উল হক এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। বিজয় দিবসে উদ্বোধনের মাধ্যমে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য নির্ধারিত হয়।

চিত্রকর ও স্থপতি রশিদ আহমেদের নকশায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটিতে ইসলামী স্থাপত্যরীতি ও আধুনিক শিল্পধারার সমন্বয় দেখা যায়। নির্মাণে সিরামিক ইট, সাদা ও কালো পাথর এবং মোজাইক টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে।

ভাস্কর্যটির মূল কাঠামো সাতটি আর্চ বা স্তম্ভ নিয়ে গঠিত। এই সাতটি আর্চকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয় এর মধ্যে ১৯৭১ সালের অস্থায়ী সরকারের সাত সদস্যের মন্ত্রিসভার প্রতীক হিসেবে একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা রয়েছে। এছাড়া এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।

উপরের অংশে মুষ্টিবদ্ধ হাতে রাইফেলের প্রতীক সশস্ত্র সংগ্রামের দিকটি নির্দেশ করে। প্রবেশপথে স্থাপিত বৃত্তাকার কালো প্লেট সংগ্রামের স্মারক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

ভাস্কর্যটির বিভিন্ন রঙ নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে লাল সিরামিক ইট যুদ্ধ ও আন্দোলনের প্রতীক কালো পাথর শোকের প্রতীক। সাদা মোজাইক পুনর্গঠনের ধারণা নির্দেশ করে। সবুজ ও নীল টাইলস শান্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। সমগ্র কাঠামোটি অর্ধ-উদিত সূর্যের আদলে নির্মিত, যা একটি নবস্বাধীন দেশের সূচনা পর্যায়কে নির্দেশ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়েরক্ষার্থীদের জন্য ‘মুক্তবাংলা’ একটি পরিচিত স্থান। নবীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় এটি প্রথম লক্ষ্য করে। স্নাতক সম্পন্ন করার পর অনেক শিক্ষার্থী এই ভাস্কর্যের সামনে ছবি তোলে।

জাতীয় দিবস যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং শহীদ দিবসে এখানে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ফুল অর্পণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে ভাস্কর্যটি এসব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ডিজিটাল যুগে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে ‘মুক্তবাংলা’ একটি দৃশ্যমান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এটি ইতিহাস, জাতীয় পরিচয় ও মূল্যবোধের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করে।

‘মুক্তবাংলা’ ভাস্কর্যটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরিচিত ও ব্যবহৃত স্থান হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা এই স্থাপনা পরিদর্শন করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছেও এটি আকর্ষণীয় একটি স্থাপত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত।

মোহাম্মদ সাদ
শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ