ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে সাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

সংগৃহীত ছবি।

বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। আগামী ১১ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ফলে প্রায় দুই মাস কর্মহীন হয়ে পড়ছেন ভোলার ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে।

নিষেধাজ্ঞার প্রাক্কালে গভীর সমুদ্র থেকে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই দৌলতখানের পাতারখাল, চরফ্যাশনের সামরাজ, নুরাবাদ এবং মনপুরার রামনেওয়াজ ও হাজিরহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে এসে ট্রলারগুলো নোঙর করেছে।

ঘাটে ফিরে জেলেরা এখন জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ এই সুযোগে ট্রলার মেরামতের কাজও সারছেন। তবে সামনে দীর্ঘ দুই মাসের কর্মহীনতা ঘিরে জেলেদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। সংসারের নিত্য খরচ চালানো এবং এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিজন জেলেকে দুই ধাপে মোট ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। তবে জেলেদের অভিযোগ, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কারণে প্রকৃত জেলেরা এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

এ অবস্থায় জেলেদের দাবি, চালের পরিবর্তে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করলে অনিয়ম কমবে এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করতে পারবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। তিনি বলেন, “কর্মহীন জেলেদের খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার থাকবে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্রে মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল জেলেদের কাছেই ফিরে আসবে।

সব মিলিয়ে, জীববৈচিত্র্য রক্ষার এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে জীবিকা সংকটে পড়া জেলেদের জন্য কার্যকর ও স্বচ্ছ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে সাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের সময়ঃ ১১:০৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। আগামী ১১ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ফলে প্রায় দুই মাস কর্মহীন হয়ে পড়ছেন ভোলার ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে।

নিষেধাজ্ঞার প্রাক্কালে গভীর সমুদ্র থেকে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই দৌলতখানের পাতারখাল, চরফ্যাশনের সামরাজ, নুরাবাদ এবং মনপুরার রামনেওয়াজ ও হাজিরহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে এসে ট্রলারগুলো নোঙর করেছে।

ঘাটে ফিরে জেলেরা এখন জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ এই সুযোগে ট্রলার মেরামতের কাজও সারছেন। তবে সামনে দীর্ঘ দুই মাসের কর্মহীনতা ঘিরে জেলেদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। সংসারের নিত্য খরচ চালানো এবং এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিজন জেলেকে দুই ধাপে মোট ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। তবে জেলেদের অভিযোগ, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কারণে প্রকৃত জেলেরা এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

এ অবস্থায় জেলেদের দাবি, চালের পরিবর্তে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করলে অনিয়ম কমবে এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করতে পারবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। তিনি বলেন, “কর্মহীন জেলেদের খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার থাকবে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্রে মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল জেলেদের কাছেই ফিরে আসবে।

সব মিলিয়ে, জীববৈচিত্র্য রক্ষার এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে জীবিকা সংকটে পড়া জেলেদের জন্য কার্যকর ও স্বচ্ছ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।