
এসএসসি ও সমমানের বহুল প্রতীক্ষিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। প্রবেশপত্র না পেয়ে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বসেন, ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার পলাশবাড়ী ফিলিং স্টেশন এলাকায় গিরিধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী সড়কে অবস্থান নেন। প্রবেশপত্র না পাওয়ার হতাশা ও অনিশ্চয়তায় তারা হঠাৎ করেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের এই অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে, দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধ রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তুলে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান এবং পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরোয়ারে আলম খান। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে রাতেই প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে সংকটটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একই উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও ৩৬ জন পরীক্ষার্থী সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রবেশপত্র পাননি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দিনভর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
অন্যদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় কঞ্চিপাড়া এমইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা দিয়েছে আরও গুরুতর অনিয়ম। প্রায় ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে মারাত্মক ভুল ধরা পড়ে। কোথাও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীকে মানবিক বিভাগে দেখানো হয়েছে, কারো ছবির জায়গায় অন্যের ছবি, আবার কারো বাবা-মায়ের নামও ভুলভাবে মুদ্রিত হয়েছে। এসব ত্রুটির প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনভর বিক্ষোভ করেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানান, “পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সব প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
এদিকে পরীক্ষার্থীরা বলছেন, পরীক্ষা শুরুর আগের রাত পর্যন্ত প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা চরম মানসিক চাপে ছিলেন। প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে তারা ঘরে ফিরলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র বিতরণে এ ধরনের গাফিলতি ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পরীক্ষার আগের রাতেই যখন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার বদলে রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়, তখন তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়—পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেয়। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার দায় কে নেয় এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















