ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
“মৃত্যুফাঁদে পরিণত সড়ক!”

গৌরনদীতে স্পিড ব্রেকারের দাবিতে শিক্ষার্থী-জনতার তীব্র মানববন্ধন

গতকাল সকালে আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ড এবং গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের এ মানববন্ধন হয়।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার ক্ষোভ এবার রাজপথে বিস্ফোরিত হয়েছে। প্রাণঘাতী ঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ড এবং গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ব্যস্ত মহাসড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কের এই অংশটি এখন কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন। কিন্তু বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই—নেই স্পিড ব্রেকার, নেই নিরাপদ পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং।

তারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন, কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রতিদিন মৃত্যুকে সঙ্গী করে স্কুলে যাই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রাস্তা পার হওয়া মানেই আতঙ্ক। দ্রুত স্পিড ব্রেকার না দিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”

বক্তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই সময়ক্ষেপণ না করে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।একটি হাসপাতালের সামনে যদি নিরাপদে রাস্তা পার হওয়া না যায়, তাহলে তা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়—মানবিক ব্যর্থতা। এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত দুর্ঘটনার পর জাগবে দায়িত্বশীল মহল? নাকি প্রাণহানি চলতেই থাকবে, আর প্রতিকার আসবে কেবল প্রতিশ্রুতির কাগজে?

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

“মৃত্যুফাঁদে পরিণত সড়ক!”

গৌরনদীতে স্পিড ব্রেকারের দাবিতে শিক্ষার্থী-জনতার তীব্র মানববন্ধন

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার ক্ষোভ এবার রাজপথে বিস্ফোরিত হয়েছে। প্রাণঘাতী ঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ড এবং গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ব্যস্ত মহাসড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কের এই অংশটি এখন কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন। কিন্তু বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই—নেই স্পিড ব্রেকার, নেই নিরাপদ পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং।

তারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন, কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রতিদিন মৃত্যুকে সঙ্গী করে স্কুলে যাই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রাস্তা পার হওয়া মানেই আতঙ্ক। দ্রুত স্পিড ব্রেকার না দিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”

বক্তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই সময়ক্ষেপণ না করে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।একটি হাসপাতালের সামনে যদি নিরাপদে রাস্তা পার হওয়া না যায়, তাহলে তা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়—মানবিক ব্যর্থতা। এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত দুর্ঘটনার পর জাগবে দায়িত্বশীল মহল? নাকি প্রাণহানি চলতেই থাকবে, আর প্রতিকার আসবে কেবল প্রতিশ্রুতির কাগজে?