ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
“মৃত্যুফাঁদে পরিণত সড়ক!”

গৌরনদীতে স্পিড ব্রেকারের দাবিতে শিক্ষার্থী-জনতার তীব্র মানববন্ধন

গতকাল সকালে আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ড এবং গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের এ মানববন্ধন হয়।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার ক্ষোভ এবার রাজপথে বিস্ফোরিত হয়েছে। প্রাণঘাতী ঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ড এবং গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ব্যস্ত মহাসড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কের এই অংশটি এখন কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন। কিন্তু বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই—নেই স্পিড ব্রেকার, নেই নিরাপদ পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং।

তারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন, কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রতিদিন মৃত্যুকে সঙ্গী করে স্কুলে যাই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রাস্তা পার হওয়া মানেই আতঙ্ক। দ্রুত স্পিড ব্রেকার না দিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”

বক্তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই সময়ক্ষেপণ না করে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।একটি হাসপাতালের সামনে যদি নিরাপদে রাস্তা পার হওয়া না যায়, তাহলে তা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়—মানবিক ব্যর্থতা। এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত দুর্ঘটনার পর জাগবে দায়িত্বশীল মহল? নাকি প্রাণহানি চলতেই থাকবে, আর প্রতিকার আসবে কেবল প্রতিশ্রুতির কাগজে?

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

“মৃত্যুফাঁদে পরিণত সড়ক!”

গৌরনদীতে স্পিড ব্রেকারের দাবিতে শিক্ষার্থী-জনতার তীব্র মানববন্ধন

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার ক্ষোভ এবার রাজপথে বিস্ফোরিত হয়েছে। প্রাণঘাতী ঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ড এবং গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ব্যস্ত মহাসড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কের এই অংশটি এখন কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন। কিন্তু বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই—নেই স্পিড ব্রেকার, নেই নিরাপদ পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং।

তারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন, কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রতিদিন মৃত্যুকে সঙ্গী করে স্কুলে যাই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রাস্তা পার হওয়া মানেই আতঙ্ক। দ্রুত স্পিড ব্রেকার না দিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”

বক্তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই সময়ক্ষেপণ না করে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।একটি হাসপাতালের সামনে যদি নিরাপদে রাস্তা পার হওয়া না যায়, তাহলে তা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়—মানবিক ব্যর্থতা। এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত দুর্ঘটনার পর জাগবে দায়িত্বশীল মহল? নাকি প্রাণহানি চলতেই থাকবে, আর প্রতিকার আসবে কেবল প্রতিশ্রুতির কাগজে?