ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিমন্ত্রীর সফর- জেলা বিএনপির শুভেচ্ছা ডিএনসির অভিযানে চোলাইমদ ও ওয়াশসহ একজন আটক, ছয় মাসের কারাদণ্ড শিশুদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ- নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী জামায়াত ও নারী ইস্যুতে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫৯৬ জন সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা- প্রধানমন্ত্রী জুতার সূত্র ধরে মিললো ছাত্রীর মরদেহ জামিন পাওয়ার পর ফেসবুকে দুই শব্দের পোস্ট, আবারও আলোচনায় পরীমনি সিঙ্গাইরে তিন ভাই হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, আটজনের যাবজ্জীবন সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ৮ ডিসেম্বর

জামায়াত ও নারী ইস্যুতে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:১১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২৫১ Time View

সামান্তা শারমিন (ফাইল ছবি)। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট এবং নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও অংশীদারত্ব উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন জানান, প্রায় ১১ মাস ধরে তিনি দলের ভেতরে মতাদর্শিক লড়াই চালিয়েছেন। দল ভুল পথে গেলে তা শোধরানোর রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন ও আলোচনা করেছেন।

তাঁর মতে, এনসিপি শুরুর মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক লাইন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে নিজস্ব পরিচয় ও কর্মসূচি তৈরি করতে না পেরে দলটি শেষ পর্যন্ত বড় রাজনৈতিক দল ও অতি-ডানপন্থী শক্তির অনুগামী হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ও বোঝাপড়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে বলে তিনি আগেই জানিয়েছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না; বরং তাদের দার্শনিক ভিত্তি ও রাষ্ট্রচিন্তা ফ্যাসিবাদী। একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়া এবং সংস্কারের পথ কুক্ষিগত করার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতের প্রভাবে এনসিপি নিজেদের হারিয়ে ফেলেছে এবং অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা শেষ করেছে।

সামান্তা শারমিন মনে করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে পরিবর্তনমুখী রাজনৈতিক নির্বাচন হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ এনসিপি হাতছাড়া করেছে। বিকল্প কৌশল এড়িয়ে বড় দলের সঙ্গে জোট করার পুরোনো পথে হাঁটায় দলের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শহীদ ওসমান হাদীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনী কৌশলকে যৌক্তিক দেখাতে এ ঘটনাকে ব্যবহার করা অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে সামান্তা শারমিন অভিযোগ করেন, বিজয়ের পর থেকেই পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক পক্ষ ও দলগুলো নারীদের সরিয়ে দিতে সক্রিয় হয়েছে। তাঁর দাবি, এনসিপিও এই রক্ষণশীল প্রবণতার বাইরে যায়নি। দলটির সাংগঠনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং নারীদের কোণঠাসা করার সংস্কৃতি পুনরুৎপাদিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রায় এক বছরের সংগ্রামের ইতি টেনে তিনি বলেন, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রে নতুন ব্যবস্থা আনার সহায়ক হতে পারে না, বরং প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দলের ভেতরের বাস্তব চিত্র শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে তিনি এনসিপির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিমন্ত্রীর সফর- জেলা বিএনপির শুভেচ্ছা

জামায়াত ও নারী ইস্যুতে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট এবং নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও অংশীদারত্ব উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন জানান, প্রায় ১১ মাস ধরে তিনি দলের ভেতরে মতাদর্শিক লড়াই চালিয়েছেন। দল ভুল পথে গেলে তা শোধরানোর রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন ও আলোচনা করেছেন।

তাঁর মতে, এনসিপি শুরুর মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক লাইন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে নিজস্ব পরিচয় ও কর্মসূচি তৈরি করতে না পেরে দলটি শেষ পর্যন্ত বড় রাজনৈতিক দল ও অতি-ডানপন্থী শক্তির অনুগামী হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ও বোঝাপড়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে বলে তিনি আগেই জানিয়েছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না; বরং তাদের দার্শনিক ভিত্তি ও রাষ্ট্রচিন্তা ফ্যাসিবাদী। একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়া এবং সংস্কারের পথ কুক্ষিগত করার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতের প্রভাবে এনসিপি নিজেদের হারিয়ে ফেলেছে এবং অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা শেষ করেছে।

সামান্তা শারমিন মনে করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে পরিবর্তনমুখী রাজনৈতিক নির্বাচন হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ এনসিপি হাতছাড়া করেছে। বিকল্প কৌশল এড়িয়ে বড় দলের সঙ্গে জোট করার পুরোনো পথে হাঁটায় দলের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শহীদ ওসমান হাদীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনী কৌশলকে যৌক্তিক দেখাতে এ ঘটনাকে ব্যবহার করা অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে সামান্তা শারমিন অভিযোগ করেন, বিজয়ের পর থেকেই পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক পক্ষ ও দলগুলো নারীদের সরিয়ে দিতে সক্রিয় হয়েছে। তাঁর দাবি, এনসিপিও এই রক্ষণশীল প্রবণতার বাইরে যায়নি। দলটির সাংগঠনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং নারীদের কোণঠাসা করার সংস্কৃতি পুনরুৎপাদিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রায় এক বছরের সংগ্রামের ইতি টেনে তিনি বলেন, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রে নতুন ব্যবস্থা আনার সহায়ক হতে পারে না, বরং প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দলের ভেতরের বাস্তব চিত্র শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে তিনি এনসিপির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।