
রাজশাহীতে উচ্ছেদের প্রতিবাদে আমরণ অনশনে বসা ভূমিহীনদের আন্দোলন ভাঙালেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজ হাতে পানি পান করিয়ে শুক্রবার সকালে তিনি অনশন ভাঙান।
সকালে মন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তিন দফা দাবিতে অনশন শুরু করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। কিছুক্ষণ পরই মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন,
“৪ ঘণ্টার নোটিশে দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি থেকে মানুষ উচ্ছেদ করার চেষ্টা সম্পূর্ণ অন্যায় ও চক্রান্তমূলক। উচ্ছেদ করতে হলে অন্তত ৬-৭ দিন সময় দেওয়া উচিত। হঠাৎ করে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া মানবিকতার পরিপন্থী।”
মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
ভূমিহীনদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকার খাসজমি প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বণ্টনে আন্তরিক।
“প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে ১ থেকে ২ কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাসজমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় সাবেক সরকারের আমলে ভূমিদস্যুদের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন,
“লিটন, শাহু ও সাচ্চুর মতো ভূমিদস্যুরা জনগণের সম্পদ দখলের চেষ্টা করেছে। ৭০ বছর আগের মালিকানা দাবি দেখিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখলের কোনো সুযোগ নেই।”
ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা জমি থেকে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। হঠাৎ নোটিশ দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামেন।
তাদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল-উচ্ছেদ বন্ধ, বসতভিটার বৈধতা প্রদান এবং খাসজমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
মন্ত্রীর আশ্বাসে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও এখন নজর বাস্তবায়নের দিকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আবারও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল বিষয়। এজন্য স্বচ্ছ নীতিমালা, কার্যকর তদারকি এবং স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ 



















