
সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নামে ভুয়া কার্ড তৈরি করে নিম্নমানের চাল বিতরণের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জেসমিন বেগম ও তার সহযোগী মেহেদী হাসান মিদুল।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেলা শহরের পলশা এলাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তারা দুজনই ওই এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অনুকরণে ভুয়া কার্ড তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং নিম্নমানের চাল বিতরণ করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই জালিয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল, যেখানে সুবিধাভোগীদের প্রকৃত সরকারি তালিকার বাইরে রেখে ভুয়া তালিকার মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হতো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এজাহার পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি বলেন, “তারা যে প্রক্রিয়ায় চাল বিতরণ করছিল, তা আইনগতভাবে বৈধ কি না-এ বিষয়ে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি প্রতারণামূলক চক্র বলে মনে হচ্ছে।”
শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত জেসমিন বেগম ও মেহেদী হাসান মিদুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে এমন প্রতারণা খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী যদি জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি, ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















