
ভালোবাসা ভাষা মানে না, দূরত্বও নয়-এ কথারই যেন জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন চীনের যুবক চেন বাও মিং ও কুষ্টিয়ার তরুণী তাসলিমা খাতুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, দীর্ঘ এক বছরের প্রেম, আর সেই সম্পর্কের পূর্ণতা পেল বিয়ের মাধ্যমে। হাজার মাইল দূরের চীন থেকে প্রেমিকার হাত ধরতে বাংলাদেশে ছুটে এসে কুষ্টিয়ার আদালতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই চীনা যুবক।
ঘটনাটি নিয়ে এখন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি বিয়ে নয়, বরং ভালোবাসার এক ব্যতিক্রমী গল্প।
জানা গেছে, তাসলিমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার ১২ মাইল এলাকার পশ্চিম বাহিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মধু মোল্লার মেয়ে। আর চীনা যুবক চেন বাও মিং চীনের গানসু প্রদেশের দাবান চাউন চেনজিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং চেন ইউয়ানঝি’র ছেলে। পেশায় তিনি একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকেই প্রেম। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসলিমা ও চেন বাও মিংয়ের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়।
দুই পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন চেন বাও মিং। বিমানবন্দর থেকে তাকে স্বাগত জানিয়ে ভেড়ামারার বাড়িতে নিয়ে আসে তাসলিমার পরিবার।
পরে স্থানীয়দের পরামর্শে কুষ্টিয়া আদালতে আইনগতভাবে বিবাহ সম্পন্ন করেন তারা।
বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাসলিমার বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষজন। শুধু আশপাশ নয়, দূরদূরান্ত থেকেও অনেকেই আসছেন নতুন এই দম্পতিকে এক নজর দেখতে।
স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্র এখন চীনা এই জামাই। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ কথা বলার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার বিদেশি নাগরিককে কাছ থেকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
ট্রান্সলেটের মাধ্যমে কথা হলে চেন বাও মিং বলেন,“আমি তাকে ভালোবাসি। আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছি। তার পরিবার খুব আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আমি এখানে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে স্ত্রীর কাগজপত্র প্রস্তুত করে তাকে চীনে নিয়ে যেতে চাই।”
অন্যদিকে নববধূ তাসলিমা খাতুন বলেন,“উভয় পরিবারের সম্মতিতেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথা হয়। আমি খুব খুশি। সবার কাছে দোয়া চাই।”
স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তির যুগে সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করলেও এই বিয়ে যেন প্রমাণ করলো—সত্যিকারের ভালোবাসা দেশ-সীমানা মানে না।
এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আগে শুনতাম প্রেম মানুষকে দেশান্তরী করে, এখন চোখের সামনে দেখলাম।”
এদিকে চীনা যুবকের আগমন ও বিয়েকে ঘিরে ভেড়ামারায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে ‘ভালোবাসার আন্তর্জাতিক গল্প’ বলছেন।
“প্রেমের টানে চীন থেকে কুষ্টিয়া—এ যেন সিনেমাকেও হার মানানো বাস্তব গল্প।”এখন এই নবদম্পতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চীন না বাংলাদেশ—তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও আপাতত ভালোবাসার এই গল্পই জয় করেছে সবার মন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















