ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

নাটোরে মাশরুম চাষে পুষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের বার্তা

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে নাটোর সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঁঠারবাড়িয়া নতুন বাজার এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মাঠ দিবস পালিত হয়।

পুষ্টি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে মাশরুম চাষকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নাটোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাঠ দিবস। “মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প” এর আওতায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে নাটোর সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঁঠারবাড়িয়া নতুন বাজার এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মাঠ দিবস পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. হাবিবুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক (হর্টিকালচার) কৃষিবিদ মো. শামীম ইকবাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নীলিমা জাহান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, মাশরুম উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা।

মাঠ দিবসে বক্তারা বলেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আয় বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে মাশরুম চাষ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন এই খাদ্যে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা অপুষ্টি দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, অল্প জায়গায়, কম খরচে ও স্বল্প সময়ে উৎপাদনযোগ্য হওয়ায় মাশরুম চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য এটি হতে পারে স্বাবলম্বী হওয়ার কার্যকর মাধ্যম। বাড়ির আঙিনা কিংবা ঘরের ভেতরেও চাষ সম্ভব হওয়ায় এর বিস্তার সহজ ও পরিবেশবান্ধব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, “মাশরুম শুধু একটি খাদ্য নয়, এটি হতে পারে পুষ্টি নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর হাতিয়ার। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।”

মাঠ দিবসে মাশরুম চাষের বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি, পরিচর্যা, উৎপাদন কৌশল ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম তার সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, মাশরুম চাষ সঠিকভাবে করলে কম পুঁজিতেই লাভবান হওয়া সম্ভব।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারের এ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ করা, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি মাশরুম চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। তারা এই খাতে সরকারি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর দাবি জানান।

মাঠ দিবস শেষে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নাটোরে মাশরুম চাষকে জনপ্রিয় করে তুলবে এবং পুষ্টি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

নাটোরে মাশরুম চাষে পুষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের বার্তা

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

পুষ্টি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে মাশরুম চাষকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নাটোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাঠ দিবস। “মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প” এর আওতায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে নাটোর সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঁঠারবাড়িয়া নতুন বাজার এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মাঠ দিবস পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. হাবিবুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক (হর্টিকালচার) কৃষিবিদ মো. শামীম ইকবাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নীলিমা জাহান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, মাশরুম উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা।

মাঠ দিবসে বক্তারা বলেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আয় বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে মাশরুম চাষ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন এই খাদ্যে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা অপুষ্টি দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, অল্প জায়গায়, কম খরচে ও স্বল্প সময়ে উৎপাদনযোগ্য হওয়ায় মাশরুম চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য এটি হতে পারে স্বাবলম্বী হওয়ার কার্যকর মাধ্যম। বাড়ির আঙিনা কিংবা ঘরের ভেতরেও চাষ সম্ভব হওয়ায় এর বিস্তার সহজ ও পরিবেশবান্ধব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, “মাশরুম শুধু একটি খাদ্য নয়, এটি হতে পারে পুষ্টি নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর হাতিয়ার। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।”

মাঠ দিবসে মাশরুম চাষের বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি, পরিচর্যা, উৎপাদন কৌশল ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম তার সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, মাশরুম চাষ সঠিকভাবে করলে কম পুঁজিতেই লাভবান হওয়া সম্ভব।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারের এ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ করা, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি মাশরুম চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। তারা এই খাতে সরকারি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর দাবি জানান।

মাঠ দিবস শেষে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নাটোরে মাশরুম চাষকে জনপ্রিয় করে তুলবে এবং পুষ্টি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।