
মাগুরায় অয়েল ভাঙানোর মিলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সোবাহান (১৫) নামে এক কিশোর শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর প্রায় ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি শিল্প কারখানায় শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোবাহান দীর্ঘদিন ধরে ওই অয়েল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার দুপুরেও তিনি তেল ভাঙানোর কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে হঠাৎ মেশিন চালু হলে অসাবধানতাবশত তার হাত ও পা মেশিনের ফিতার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি মেশিনের ঘূর্ণনের সঙ্গে আটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
সহকর্মীরা চিৎকার শুনে দ্রুত এগিয়ে এসে মেশিনের সুইচ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। তবে মেশিন বন্ধ হতে কিছুটা সময় লাগায় ততক্ষণে কিশোর শ্রমিক সোবাহান মারাত্মকভাবে জখম হন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর মিল এলাকা ও হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে কিশোর শ্রমিকদের কাজ করানো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেশিনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা কিংবা অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টরা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ছোট শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও শ্রমিক সুরক্ষার বিষয়টি যথাযথভাবে মানা হয় না। ফলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা, ঝরে যায় প্রাণ।
এ ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অয়েল মিলসহ ছোট শিল্প কারখানাগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি কিশোর শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত সোবাহানের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। এলাকায় এ মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মাগুরা প্রতিনিধিঃ 



















