ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগে চাচার বিরুদ্ধে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর অনুরাগ কমিটি সেন্টারে ভূক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যবসায়ী পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, পরিকল্পিতভাবে জমি ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর অনুরাগ কমিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, তাঁর স্বামী আবুল কালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য, সোনা মসজিদ স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং একজন ভাটা ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত।

ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার বলেন, তাঁর চাচা শ্বশুর সাইফুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিত হওয়াত এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।
অভিযুক্ত নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি সাগরপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলামের বাসা সংলগ্ন চার কাঠা জমি আইনগতভাবে ক্রয় করেন আবুল কালাম। তবে জমি বুঝে নেওয়ার সময় বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই সময় সাইফুল ইসলাম আবুল কালামের ওপর শারীরিক হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ ডিসেম্বর ২০২২ সালের ঘটনার সূত্র ধরে ২১ ডিসেম্বর গোদাগাড়ী থানায় আবুল কালামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–৩১/৬৩৯), যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি পরিবারের।

এদিকে একই দিনে আবুল কালামের মাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের দুই তারিখে তিনি সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বেলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং–সি আর ০১/২০২৩।

মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আরমিনা আক্তার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, থানায় সহায়তা চাইতে গেলে তারা আশানুরূপ সহযোগিতা পাননি। বরং উল্টো হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি থানার গেটেই সাংবাদিক পরিচয়ে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারটির দাবি, জমি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধারাবাহিক হয়রানি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টির জন্য আত্মীয়স্বজনকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে কুপরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় দানকারী সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, কখনো তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করিনি। সে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক তথ্য আছে।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান বাশির বলেন, এরকম কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। ভুক্তভোগী চাইলে থানার সহায়তা নিতে পারেন। লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগে চাচার বিরুদ্ধে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যবসায়ী পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, পরিকল্পিতভাবে জমি ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর অনুরাগ কমিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, তাঁর স্বামী আবুল কালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য, সোনা মসজিদ স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং একজন ভাটা ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত।

ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার বলেন, তাঁর চাচা শ্বশুর সাইফুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিত হওয়াত এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।
অভিযুক্ত নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি সাগরপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলামের বাসা সংলগ্ন চার কাঠা জমি আইনগতভাবে ক্রয় করেন আবুল কালাম। তবে জমি বুঝে নেওয়ার সময় বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই সময় সাইফুল ইসলাম আবুল কালামের ওপর শারীরিক হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ ডিসেম্বর ২০২২ সালের ঘটনার সূত্র ধরে ২১ ডিসেম্বর গোদাগাড়ী থানায় আবুল কালামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–৩১/৬৩৯), যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি পরিবারের।

এদিকে একই দিনে আবুল কালামের মাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের দুই তারিখে তিনি সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বেলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং–সি আর ০১/২০২৩।

মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আরমিনা আক্তার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, থানায় সহায়তা চাইতে গেলে তারা আশানুরূপ সহযোগিতা পাননি। বরং উল্টো হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি থানার গেটেই সাংবাদিক পরিচয়ে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারটির দাবি, জমি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধারাবাহিক হয়রানি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টির জন্য আত্মীয়স্বজনকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে কুপরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় দানকারী সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, কখনো তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করিনি। সে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক তথ্য আছে।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান বাশির বলেন, এরকম কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। ভুক্তভোগী চাইলে থানার সহায়তা নিতে পারেন। লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।