
বিনা মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির এমপি প্রার্থী ও দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হলে বিএনপি তা মেনে নেবে না।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা এলাকায় কল্যাণপুর যুব সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল’ খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হারুনুর রশীদ বলেন, “আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী বা প্রতীক নেই। তারা নির্বাচন করছে না। এখন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কাকে ভোট দেবে, সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে পারে। কিন্তু কেউ যদি আমাকে ভোট দিতে চায় বলে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়, সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা নেই, তাকে যেন হয়রানি করা না হয়—এটা আমি খুব স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি। এর বাইরে যদি কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হয়, তাহলে জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে আমি থানা ঘেরাও করব।”
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই শহরে, এই দেশেই আওয়ামী লীগের লোকজন বসবাস করছে। সবাই কি অপরাধী? আওয়ামী লীগের সময় আমরা ঘরে বসে থাকলেও আমাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দেওয়া হয়েছে। এখন যদি নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ধরা হয়, তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “আল্লাহর রহমতে আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে জেলার সব প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আমার শক্তি হবে জনগণ। এখানে কোনো অন্যায় চাঁদাবাজি, জমি দখল বা ক্ষমতার অপব্যবহার চলবে না—সে আমার লোক হলেও না।”
তিনি বলেন, “আমি বিএনপি করি বলে জমি দখল করব, হারুন এমপির কাছের লোক বলে যা ইচ্ছা করব—এটা হবে না। এতে যদি আমার লোকেরা ভোট না দেয়, তবু আমি অন্যায় মেনে নেব না। মানুষের নিরাপত্তাই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, “থানায় ঘুষ, ভূমি অফিসে জমি খারিজ করতে গিয়ে ঘুষ কিংবা টেন্ডারবাজি—চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসব হতে দেওয়া হবে না। এজন্য যুবসমাজের সমর্থন চাই। যুবসমাজ পাশে থাকলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আরও সুন্দর ও নিরাপদ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান সাহেবও বলেছেন, এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইনশা আল্লাহ, আমরা তা নিশ্চিত করব। গত ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দিইনি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সুলতানুল ইসলাম সুলতান, জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান, পৌর যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিম, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সাবেক কাউন্সিলর ইফতেখার আহমেদ রঞ্জুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















