
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ আরও ৫৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। রোববার আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে এসব আপিল মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাছাই পর্যায়ে তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন।
এর আগের দিন শনিবার আপিল শুনানির প্রথম দিনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ ৫১ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে একই দিনে বাছাইয়ে বৈধ হওয়া একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে আপিল শুনানির প্রথম দুই দিনে নির্বাচন কমিশন মোট ১০৯ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মোট ৭১টি আপিল নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে ৫৮টি আপিল মঞ্জুর, ৭টি নামঞ্জুর এবং ৬টি আবেদন পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। নামঞ্জুর হওয়া সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বহাল থাকছে। এদিন মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে কোনো আপিল ছিল না।
ইসি জানায়, আজ সোমবার তৃতীয় দিনের শুনানিতে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে আরও ৭০টি আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।
মান্নার প্রার্থিতা বহাল
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) ও ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর মনোনয়ন বৈধ থাকলেও বগুড়া-২ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিল করেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
রোববার শুনানি শেষে তাঁর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, ইসি বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার আপিল মঞ্জুর করেছে। ফলে ওই আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এর আগেও তিনি বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তা ‘মবক্রেসি’র অশুভ দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, মনোনয়ন বাতিলের যৌক্তিক কোনো কারণ ছিল না। নির্বাচন কমিশন সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীরাও স্বস্তিতে
ইসির তথ্যমতে, রোববার যাঁদের আপিল মঞ্জুর হয়েছে তাঁদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন—চাঁদপুর-২ আসনে মোহাম্মদ আব্দুল মোমিন, যশোর-২ আসনে মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং জামালপুর-৩ আসনে মো. মুজিবুর রহমান আজাদী।
এ ছাড়া আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান (মাগুরা-১)। বিভিন্ন দলের মধ্যে খেলাফত মজলিসের ৮ জন, জাতীয় পার্টির ৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। বাকিরা স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থী।
নির্বাচন তফসিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবার মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে ৬৪৫টি আপিল নির্বাচন কমিশনে জমা পড়ে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 






















