
প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং পবা–মোহনপুর আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিএনপির সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যের রাজনীতির পথে এগিয়ে যেতে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিলন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সতের বছর লন্ডনে অবস্থান শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরে প্রথম বক্তব্যেই তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন—প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যের রাজনীতির মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এডভোকেট শফিকুল হক মিলন আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সবাইকে এক কাতারে এনে আন্দোলন গড়ে তোলার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শত নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও তাঁকে দেশছাড়া করা যায়নি। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তীতে তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন। সে সময় অনেক রাজনৈতিক শক্তি আপসের পথে গেলেও তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আপসহীন আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। এ কারণেই জনগণ তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মিলন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ছিলেন ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’। তাঁর মৃত্যুতে দেশ-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের শোকবার্তা তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পতিত সরকারের আমলে শেখ হাসিনার নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং যথাসময়ে চিকিৎসা না দিয়ে তাঁকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার জন্য তিনি বিচার দাবি করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকোসহ বিএনপির প্রয়াত নেতাকর্মী এবং জুলাই–আগস্টে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
একাধিক স্থানে দোয়া মাহফিল
এদিন বিকেল পাঁচটায় মোহনপুর উপজেলার ৩নং রায়ঘাটি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা ফারাইজির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল হক মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ, সাবেক মেয়র আলাউদ্দিন আলো ও সাবেক মেয়র মকবুল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সন্ধ্যা ছয়টায় মোহনপুরের শ্যামপুর হাট মাঠে ২নং ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আরেকটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মালেকের সভাপতিত্বে এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সমিতির সভাপতি আনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার শাহিন আলী, বিএনপি নেতা শেখ মকবুল হোসেন, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, কাউন্সিলর আবু সুফিয়ানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সৈয়দ মাসুদ রাজশাহী 






















