ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচনের আহ্বান তারেক রহমানের

রোববার বিকেলে রাজধানীর পল্লবীতে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, এটি হবে দেশ পুনর্গঠন এবং মানুষের ভাগ্য বদলের নির্বাচন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ এই ভোটের অপেক্ষায় ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার রাজধানীতে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে ঢাকা-১৭ আসনসহ মোট সাতটি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এসব জনসভায় সংশ্লিষ্ট আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

ঢাকার মিরপুর ইসিবি চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ঢাকা শহরসহ সারা দেশকে নিরাপদ বসবাসযোগ্য এলাকায় পরিণত করা হবে। তিনি বলেন, এমন একটি শহর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে নারীসহ সব মানুষ নিশ্চিন্তে চলাফেরা, ব্যবসা ও কর্মজীবন পরিচালনা করতে পারবেন।

ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। বিএনপি সরকার গঠন করলে শুধু এই এলাকাই নয়, পুরো ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে, যাতে শিশুরা খোলা জায়গায় খেলাধুলার সুযোগ পায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে অতীতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। দুর্নীতির লাগাম টেনে না ধরলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিকেলে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী এলাকায় আয়োজিত আরেকটি পথসভায় তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারদের কর্মসংস্থান, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং কৃষকদের উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দেশের ক্রীড়াঙ্গন থেকেও ভবিষ্যতের অসংখ্য প্রতিভা গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর দেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ের মাধ্যমে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এরপরের লক্ষ্য হবে দেশ পুনর্গঠন এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন।

ঢাকা-১৪ আসনের এক সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে বিএনপি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা দমন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচন সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ এনে দিয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ঢাকা-১৪ আসনে দ্রুত একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকা-১৫ আসনের এক পথসভায় বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপির ইশতেহারে নারী, শিক্ষার্থী, বেকার ও সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথাও জানান তিনি।

গত ১৬ বছরে মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন না হওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, বড় বড় প্রকল্প হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। বরং দুর্নীতির মাধ্যমে একটি শ্রেণি লাভবান হয়েছে।

তিনি জুলাই মাসের গণআন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, লাখো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এই আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকা-১৩, ঢাকা-১২ ও ঢাকা-১১ আসনের জনসভাগুলোতেও তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা কেবল বিএনপিরই রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

এদিকে, তারেক রহমানের জনসভাগুলোকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সভাস্থলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

আগামীকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আটটি স্থানে আরও জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচনের আহ্বান তারেক রহমানের

প্রকাশের সময়ঃ ০১:০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, এটি হবে দেশ পুনর্গঠন এবং মানুষের ভাগ্য বদলের নির্বাচন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ এই ভোটের অপেক্ষায় ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার রাজধানীতে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে ঢাকা-১৭ আসনসহ মোট সাতটি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এসব জনসভায় সংশ্লিষ্ট আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

ঢাকার মিরপুর ইসিবি চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ঢাকা শহরসহ সারা দেশকে নিরাপদ বসবাসযোগ্য এলাকায় পরিণত করা হবে। তিনি বলেন, এমন একটি শহর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে নারীসহ সব মানুষ নিশ্চিন্তে চলাফেরা, ব্যবসা ও কর্মজীবন পরিচালনা করতে পারবেন।

ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। বিএনপি সরকার গঠন করলে শুধু এই এলাকাই নয়, পুরো ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে, যাতে শিশুরা খোলা জায়গায় খেলাধুলার সুযোগ পায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে অতীতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। দুর্নীতির লাগাম টেনে না ধরলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিকেলে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী এলাকায় আয়োজিত আরেকটি পথসভায় তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারদের কর্মসংস্থান, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং কৃষকদের উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দেশের ক্রীড়াঙ্গন থেকেও ভবিষ্যতের অসংখ্য প্রতিভা গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর দেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ের মাধ্যমে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এরপরের লক্ষ্য হবে দেশ পুনর্গঠন এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন।

ঢাকা-১৪ আসনের এক সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে বিএনপি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা দমন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচন সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ এনে দিয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ঢাকা-১৪ আসনে দ্রুত একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকা-১৫ আসনের এক পথসভায় বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপির ইশতেহারে নারী, শিক্ষার্থী, বেকার ও সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথাও জানান তিনি।

গত ১৬ বছরে মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন না হওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, বড় বড় প্রকল্প হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। বরং দুর্নীতির মাধ্যমে একটি শ্রেণি লাভবান হয়েছে।

তিনি জুলাই মাসের গণআন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, লাখো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এই আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকা-১৩, ঢাকা-১২ ও ঢাকা-১১ আসনের জনসভাগুলোতেও তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা কেবল বিএনপিরই রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

এদিকে, তারেক রহমানের জনসভাগুলোকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সভাস্থলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

আগামীকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আটটি স্থানে আরও জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।