ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় মানবেতর জীবন পার করেছি-বুলবুল

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণ গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাদের পরিবারগুলো ছিল চরম আতঙ্কের মধ্যে। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করত এবং যাকে পাওয়া যেত তাকেই আটক করে নিয়ে যেত। অতীতের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এখনও তা মনে পড়লে শিউরে উঠতে হয়।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণ গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে নূরুল ইসলাম বুলবুল জানান, তার ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করে চার মাস ধরে গুম করে রাখা হয়েছিল। ওই সময় পরিবার ভেবেছিল, হয়তো তাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। দীর্ঘ চার মাস পর তার সন্ধান মেলে। তিনি আরও দাবি করেন, তার পরিবারের প্রত্যেক ভাইয়ের বিরুদ্ধেই একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় অর্ধশত ভিত্তিহীন মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে তাকে সাড়ে ১৬ বছর অত্যন্ত কষ্টকর জীবন কাটাতে হয়েছে। ওই সময়টায় তারা নিজ বাড়িতে রাতে ঘুমাতেও পারতেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে যাকে পেত তাকেই ধরে নিয়ে যেত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বাবার মৃত্যুর সময় তাকে জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে পারলেও দাফন শুরুর আগেই একাধিক পুলিশ গাড়ি তার বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়।

দীর্ঘদিন নিপীড়নের শিকার হলেও তিনি কখনো এলাকার মানুষের পাশে থাকা থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি সক্রিয় থাকবেন।

এদিকে একই জনসভায় বিএনপির ২৭ জন কর্মী নূরুল ইসলাম বুলবুলের হাত ধরে জামায়াতে ইসলামে যোগদান করেন।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে সূরার সদস্য ও সাবেক জেলা আমির রফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক লতিফুর রহমান, সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারি, নায়েবে আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুখলেসুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি আবু বক্কর, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির শফিক এনায়েতুল্লাহ, পৌর সেক্রেটারি তাহুরুল ইসলাম সোহেল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় মানবেতর জীবন পার করেছি-বুলবুল

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাদের পরিবারগুলো ছিল চরম আতঙ্কের মধ্যে। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করত এবং যাকে পাওয়া যেত তাকেই আটক করে নিয়ে যেত। অতীতের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এখনও তা মনে পড়লে শিউরে উঠতে হয়।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণ গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে নূরুল ইসলাম বুলবুল জানান, তার ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করে চার মাস ধরে গুম করে রাখা হয়েছিল। ওই সময় পরিবার ভেবেছিল, হয়তো তাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। দীর্ঘ চার মাস পর তার সন্ধান মেলে। তিনি আরও দাবি করেন, তার পরিবারের প্রত্যেক ভাইয়ের বিরুদ্ধেই একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় অর্ধশত ভিত্তিহীন মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে তাকে সাড়ে ১৬ বছর অত্যন্ত কষ্টকর জীবন কাটাতে হয়েছে। ওই সময়টায় তারা নিজ বাড়িতে রাতে ঘুমাতেও পারতেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে যাকে পেত তাকেই ধরে নিয়ে যেত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বাবার মৃত্যুর সময় তাকে জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে পারলেও দাফন শুরুর আগেই একাধিক পুলিশ গাড়ি তার বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়।

দীর্ঘদিন নিপীড়নের শিকার হলেও তিনি কখনো এলাকার মানুষের পাশে থাকা থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি সক্রিয় থাকবেন।

এদিকে একই জনসভায় বিএনপির ২৭ জন কর্মী নূরুল ইসলাম বুলবুলের হাত ধরে জামায়াতে ইসলামে যোগদান করেন।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে সূরার সদস্য ও সাবেক জেলা আমির রফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক লতিফুর রহমান, সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারি, নায়েবে আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুখলেসুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি আবু বক্কর, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির শফিক এনায়েতুল্লাহ, পৌর সেক্রেটারি তাহুরুল ইসলাম সোহেল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।