ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ‘ফ্যাসিবাদের পরিণতি’-মিয়া গোলাম পরওয়ার

পুরানা পল্টনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ১১–দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ১৬ ফেব্রুয়ারি। সংগৃহীত ছবি

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গঠন না করা হলে ক্ষমতায় আসতে যাওয়া রাজনৈতিক শক্তিকেও ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ১১–দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি অভ্যন্তরীণভাবে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক ও ‘না’ ভোট সমান হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনের পর বিভিন্ন আলোচনায় জুলাই সনদে যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হয়েছে, তা সরকার মানতে বাধ্য নয়—এমন বক্তব্য আসছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে আবারও আন্দোলন তৈরি হতে পারে। জুলাই সনদ অস্বীকার করলে ক্ষমতাসীনদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল সম্প্রচার বন্ধ করে রহস্য তৈরি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ১১–দলীয় ঐক্যের বিজয়ের বার্তা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। যেসব আসনে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।

জামায়াতের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, কারচুপির মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। খুন, হামলা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ তুলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

নতুন সরকারের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের হত্যার বিচার এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

‘ব্যালটের অধিকারের সঙ্গে তামাশা’

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাধিকার নিয়ে ‘তামাশা’ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোটের চিত্র তুলে ধরা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে পরিকল্পিতভাবে ফল প্রভাবিত করা হয়েছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সংসদে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে তিনি বলেন, উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে জনগণ নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে তারও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্যুত হওয়ার যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা দেন তিনি।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি।

‘ভোট চুরি নয়, ডাকাতি’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট চুরি নয়, ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে। নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হামলার প্রতিটি ঘটনার হিসাব নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংসদে আরও শক্ত অবস্থানে যাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম ও ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ অন্যরা।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ‘ফ্যাসিবাদের পরিণতি’-মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গঠন না করা হলে ক্ষমতায় আসতে যাওয়া রাজনৈতিক শক্তিকেও ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ১১–দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি অভ্যন্তরীণভাবে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক ও ‘না’ ভোট সমান হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনের পর বিভিন্ন আলোচনায় জুলাই সনদে যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হয়েছে, তা সরকার মানতে বাধ্য নয়—এমন বক্তব্য আসছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে আবারও আন্দোলন তৈরি হতে পারে। জুলাই সনদ অস্বীকার করলে ক্ষমতাসীনদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল সম্প্রচার বন্ধ করে রহস্য তৈরি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ১১–দলীয় ঐক্যের বিজয়ের বার্তা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। যেসব আসনে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।

জামায়াতের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, কারচুপির মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। খুন, হামলা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ তুলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

নতুন সরকারের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের হত্যার বিচার এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

‘ব্যালটের অধিকারের সঙ্গে তামাশা’

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাধিকার নিয়ে ‘তামাশা’ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোটের চিত্র তুলে ধরা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে পরিকল্পিতভাবে ফল প্রভাবিত করা হয়েছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সংসদে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে তিনি বলেন, উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে জনগণ নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে তারও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্যুত হওয়ার যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা দেন তিনি।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি।

‘ভোট চুরি নয়, ডাকাতি’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট চুরি নয়, ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে। নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হামলার প্রতিটি ঘটনার হিসাব নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংসদে আরও শক্ত অবস্থানে যাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম ও ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ অন্যরা।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।