ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

সংসদ কার্যকর করতে সরকার–বিরোধী দলের সমন্বয় প্রয়োজন: জামায়াত আমির

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন দলের আমির শফিকুর রহমান। ছবি সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্মান জরুরি। তাঁর ভাষায়, কোনো যানবাহন যেমন এক চাকা দিয়ে চলে না, তেমনি সংসদও এক পক্ষের মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে না।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দলটির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ভূমিকা রাখতে হবে, আর বিরোধী দল থাকবে গঠনমূলক সমালোচনার জায়গায়। উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সংসদকে দেশের অগ্রযাত্রার বাহনে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত প্রচলিত অর্থে গতানুগতিক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় না। বরং সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সরকারের যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি কোনো সিদ্ধান্তকে অসংগত মনে হলে প্রথমে পরামর্শ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।

জাতীয় সংসদের সময় ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সংসদ যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্রহননের জায়গা না হয়ে সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্র হয়। সংবিধানে বিদ্যমান বিতর্কিত আইনসমূহ পর্যালোচনার কথাও তিনি তুলে ধরেন এবং দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ উদ্যোগ কামনা করেন।

বক্তব্যে ২০১৩ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সে সময়ের বিচার ও পরবর্তী পরিস্থিতি জাতির জন্য বেদনাদায়ক ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিবাদকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সাবেক উপদেষ্টা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক, ওলামা-মাশায়েখ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদ কার্যকর করতে সরকার–বিরোধী দলের সমন্বয় প্রয়োজন: জামায়াত আমির

প্রকাশের সময়ঃ ১১:২১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্মান জরুরি। তাঁর ভাষায়, কোনো যানবাহন যেমন এক চাকা দিয়ে চলে না, তেমনি সংসদও এক পক্ষের মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে না।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দলটির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ভূমিকা রাখতে হবে, আর বিরোধী দল থাকবে গঠনমূলক সমালোচনার জায়গায়। উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সংসদকে দেশের অগ্রযাত্রার বাহনে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত প্রচলিত অর্থে গতানুগতিক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় না। বরং সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সরকারের যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি কোনো সিদ্ধান্তকে অসংগত মনে হলে প্রথমে পরামর্শ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।

জাতীয় সংসদের সময় ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সংসদ যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্রহননের জায়গা না হয়ে সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্র হয়। সংবিধানে বিদ্যমান বিতর্কিত আইনসমূহ পর্যালোচনার কথাও তিনি তুলে ধরেন এবং দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ উদ্যোগ কামনা করেন।

বক্তব্যে ২০১৩ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সে সময়ের বিচার ও পরবর্তী পরিস্থিতি জাতির জন্য বেদনাদায়ক ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিবাদকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সাবেক উপদেষ্টা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক, ওলামা-মাশায়েখ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।