
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাবকে ঘিরে রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান। সেখানে নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নেসকোর কার্যক্রম দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় পরিচালিত হয়। উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পূর্ব-দক্ষিণে পাবনা পর্যন্ত এর কার্যক্রম বিস্তৃত। কিন্তু সদর দপ্তর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের কিছু অপারেশনাল কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে জটিলতা তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মাঝামাঝি অবস্থানে বগুড়া হওয়ায় সেখানে প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয় এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। গত ৩ মার্চ জারি করা এক আদেশে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মোহাম্মদ সানাউল হককে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রতিনিধিকেও সদস্য রাখা হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহীর বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, রাজশাহী থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই রাখা উচিত, অন্যথায় রাজশাহীবাসী আন্দোলনে নামতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো চিঠি তার কাছে পৌঁছেনি। বিষয়টি তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে শুনেছেন বলে জানান। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম জানান, একটি ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি যাচাই করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী ঐতিহাসিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখানে রয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই রাখার পক্ষে মত দেবেন।
প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















