ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

পেকুয়ায় থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতন: ওসিকে আদালতে তলব

সংগৃহীত ছবি।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় থানার ভেতরে কলেজ শিক্ষার্থী ও তার মাকে নির্যাতনের ঘটনায় পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তলব হয়েছেন। আদালত আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে তাকে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম এ আদেশ দেন।

সূত্রে জানা গেছে, ৪ মার্চ ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার সময় পুলিশ এই দুই নারীকে মারধরের শিকার করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের একমাস করে সাজা দেন। ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উভয়ই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

এরপর ৭ মার্চ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই দুই নারীর সাজা বাতিল করে এবং মামলার দায় থেকে তাদের বেকসুর খালাস দেন।

আদালত আদেশে বলা হয়েছে, ১৬ মার্চের মধ্যে পেকুয়া থানার ওসিকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। ব্যাখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলা, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথি, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।

আদালত উল্লেখ করেছে, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারীগণ থানায় এসে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাদের আটক করেন এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান বা সরকারি কর্মচারীর উপর হামলার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ অনুযায়ী থানার ওসির দায় ছিল প্রাথমিক তথ্য বিবরণী রুজু করা, আইনানুগ তদন্ত শুরু করা এবং প্রয়োজন হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করা।

আদালত আরো উল্লেখ করেছে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য অভিযুক্তকে আগে গ্রেপ্তার করা হলে তার দোষী সাব্যস্ত করার কোনো সুযোগ নেই। এই নিয়ম অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অবৈধ হবে।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এম. এ. ই শাহজাহান নূরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং সংবাদমাধ্যমে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ওসিকে তলব করা হয়েছে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল আলমের সাথে দৈনিক অধিকার থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

পেকুয়ায় থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতন: ওসিকে আদালতে তলব

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়ায় থানার ভেতরে কলেজ শিক্ষার্থী ও তার মাকে নির্যাতনের ঘটনায় পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তলব হয়েছেন। আদালত আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে তাকে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম এ আদেশ দেন।

সূত্রে জানা গেছে, ৪ মার্চ ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার সময় পুলিশ এই দুই নারীকে মারধরের শিকার করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের একমাস করে সাজা দেন। ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উভয়ই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

এরপর ৭ মার্চ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই দুই নারীর সাজা বাতিল করে এবং মামলার দায় থেকে তাদের বেকসুর খালাস দেন।

আদালত আদেশে বলা হয়েছে, ১৬ মার্চের মধ্যে পেকুয়া থানার ওসিকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। ব্যাখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলা, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথি, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।

আদালত উল্লেখ করেছে, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারীগণ থানায় এসে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাদের আটক করেন এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান বা সরকারি কর্মচারীর উপর হামলার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ অনুযায়ী থানার ওসির দায় ছিল প্রাথমিক তথ্য বিবরণী রুজু করা, আইনানুগ তদন্ত শুরু করা এবং প্রয়োজন হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করা।

আদালত আরো উল্লেখ করেছে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য অভিযুক্তকে আগে গ্রেপ্তার করা হলে তার দোষী সাব্যস্ত করার কোনো সুযোগ নেই। এই নিয়ম অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অবৈধ হবে।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এম. এ. ই শাহজাহান নূরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং সংবাদমাধ্যমে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ওসিকে তলব করা হয়েছে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল আলমের সাথে দৈনিক অধিকার থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।