ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

খুলনায় তেল উত্তোলন শুরু, পাম্পগুলোতে স্বস্তির আভাস

সংগৃহীত ছবি।

কয়েক দিনের টানটান উত্তেজনা ও অচলাবস্থার পর খুলনায় আবারও শুরু হয়েছে জ্বালানি তেল উত্তোলন। সরকারের আশ্বাসের পর রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুর থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি তেল ডিপো থেকে ট্যাংকলরিতে জ্বালানি তোলা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে খুলনা অঞ্চলের পেট্রল পাম্পগুলোতে দেখা দেওয়া তেলের সংকট ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, জ্বালানি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে চালু করা রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহারের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। এর পরই ব্যবসায়ীরা তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু বলেন, প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর আগের মতো তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দুপুর থেকেই ডিপোগুলোতে ট্যাংকলরি প্রবেশ শুরু করেছে।

খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন জানান, ডিপোগুলো থেকে আগের তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পুনরায় তেল উত্তোলন শুরু করেছেন।

এর আগে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে গত ১৪ মার্চ সকাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০টি এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫টি জেলায় জ্বালানি ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রাখেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে ট্যাংকলরি প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়।

ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই খুলনার অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডিপোগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

নগরীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল না থাকায় অনেক যানবাহন তেল নিতে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছিল।

তবে দুপুরের পর থেকে তেল উত্তোলন শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মতে, ডিপো থেকে নিয়মিত ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট তৈরি হবে না। সরকারের আশ্বাস বাস্তবায়ন হলে খুলনা অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

খুলনায় তেল উত্তোলন শুরু, পাম্পগুলোতে স্বস্তির আভাস

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

কয়েক দিনের টানটান উত্তেজনা ও অচলাবস্থার পর খুলনায় আবারও শুরু হয়েছে জ্বালানি তেল উত্তোলন। সরকারের আশ্বাসের পর রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুর থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি তেল ডিপো থেকে ট্যাংকলরিতে জ্বালানি তোলা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে খুলনা অঞ্চলের পেট্রল পাম্পগুলোতে দেখা দেওয়া তেলের সংকট ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, জ্বালানি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে চালু করা রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহারের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। এর পরই ব্যবসায়ীরা তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু বলেন, প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর আগের মতো তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দুপুর থেকেই ডিপোগুলোতে ট্যাংকলরি প্রবেশ শুরু করেছে।

খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন জানান, ডিপোগুলো থেকে আগের তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পুনরায় তেল উত্তোলন শুরু করেছেন।

এর আগে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে গত ১৪ মার্চ সকাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০টি এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫টি জেলায় জ্বালানি ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রাখেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে ট্যাংকলরি প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়।

ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই খুলনার অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডিপোগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

নগরীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল না থাকায় অনেক যানবাহন তেল নিতে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছিল।

তবে দুপুরের পর থেকে তেল উত্তোলন শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মতে, ডিপো থেকে নিয়মিত ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট তৈরি হবে না। সরকারের আশ্বাস বাস্তবায়ন হলে খুলনা অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।