ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

পতেঙ্গায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ তেল উদ্ধার, যুবলীগ নেতা পলাতক

এ ঘটনায় জড়িত গুদাম মালিক মোহাম্মদ আলমগীর, যিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত গুদাম মালিক মোহাম্মদ আলমগীর, যিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার সকালে মাদ্রাসা গেট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একটি টিনশেড গুদাম থেকে এসব তেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চোরাই তেল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পাইকারি বিক্রির কার্যক্রম চলছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার সুযোগ নিয়ে আলমগীর বড় পরিসরে তেল মজুদ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাতের বেলায় ট্রলারযোগে তেল এনে সকালে বিভিন্ন ঠিকাদার ও পরিবহন মালিকদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো।

অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে আল-আমিন (২৭) ও মো. মাসুদ (৪০) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত আলমগীর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। গুদামের জমির মালিক নুর বক্সের দুই ছেলে আরিফ ও আশরাফকেও এ চক্রের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পতেঙ্গা থানার কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গুদামটি শনাক্ত করা হয়। সেখানে মজুদকৃত তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার করা তেলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহমেদ বলেন, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে কম দামে ডিজেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রি করে আসছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তেল মজুদ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পতেঙ্গা-কর্ণফুলী উপকূলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চোরাই তেলের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই অভিযান বড় ধরনের বার্তা দিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

পতেঙ্গায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ তেল উদ্ধার, যুবলীগ নেতা পলাতক

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত গুদাম মালিক মোহাম্মদ আলমগীর, যিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার সকালে মাদ্রাসা গেট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একটি টিনশেড গুদাম থেকে এসব তেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চোরাই তেল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পাইকারি বিক্রির কার্যক্রম চলছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার সুযোগ নিয়ে আলমগীর বড় পরিসরে তেল মজুদ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাতের বেলায় ট্রলারযোগে তেল এনে সকালে বিভিন্ন ঠিকাদার ও পরিবহন মালিকদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো।

অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে আল-আমিন (২৭) ও মো. মাসুদ (৪০) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত আলমগীর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। গুদামের জমির মালিক নুর বক্সের দুই ছেলে আরিফ ও আশরাফকেও এ চক্রের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পতেঙ্গা থানার কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গুদামটি শনাক্ত করা হয়। সেখানে মজুদকৃত তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার করা তেলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহমেদ বলেন, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে কম দামে ডিজেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রি করে আসছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তেল মজুদ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পতেঙ্গা-কর্ণফুলী উপকূলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চোরাই তেলের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই অভিযান বড় ধরনের বার্তা দিল।