ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গেন্ডারিয়ায় মাদক আধিপত্য নিয়ে গোলাগুলি, গ্রেপ্তার ৫ ৫ গোল হজমের পর বার্সেলোনাকে বিশ্বের সেরা বললেন ফেইনুর্দ কোচ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প মহাখালীতে চারতলা ভবনের ছাদে আগুন, ২৮ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে মেসি-লেভান্ডোভস্কির দ্বৈরথেও জয় পেল না কেউ, ১-১ গোলে ড্র ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের, আজ সেমিফাইনাল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান, নারীসহ ৩ জনের কারাদণ্ড নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান, নারীসহ ৩ জনের কারাদণ্ড মহাখালীতে পুরোনো ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট সেনাসদস্য রিফাতের মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার, মায়ের কবরের পাশে হবে দাফন

পতেঙ্গায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ তেল উদ্ধার, যুবলীগ নেতা পলাতক

এ ঘটনায় জড়িত গুদাম মালিক মোহাম্মদ আলমগীর, যিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত গুদাম মালিক মোহাম্মদ আলমগীর, যিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার সকালে মাদ্রাসা গেট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একটি টিনশেড গুদাম থেকে এসব তেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চোরাই তেল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পাইকারি বিক্রির কার্যক্রম চলছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার সুযোগ নিয়ে আলমগীর বড় পরিসরে তেল মজুদ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাতের বেলায় ট্রলারযোগে তেল এনে সকালে বিভিন্ন ঠিকাদার ও পরিবহন মালিকদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো।

অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে আল-আমিন (২৭) ও মো. মাসুদ (৪০) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত আলমগীর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। গুদামের জমির মালিক নুর বক্সের দুই ছেলে আরিফ ও আশরাফকেও এ চক্রের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পতেঙ্গা থানার কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গুদামটি শনাক্ত করা হয়। সেখানে মজুদকৃত তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার করা তেলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহমেদ বলেন, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে কম দামে ডিজেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রি করে আসছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তেল মজুদ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পতেঙ্গা-কর্ণফুলী উপকূলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চোরাই তেলের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই অভিযান বড় ধরনের বার্তা দিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

গেন্ডারিয়ায় মাদক আধিপত্য নিয়ে গোলাগুলি, গ্রেপ্তার ৫

পতেঙ্গায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ তেল উদ্ধার, যুবলীগ নেতা পলাতক

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত গুদাম মালিক মোহাম্মদ আলমগীর, যিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার সকালে মাদ্রাসা গেট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একটি টিনশেড গুদাম থেকে এসব তেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চোরাই তেল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পাইকারি বিক্রির কার্যক্রম চলছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার সুযোগ নিয়ে আলমগীর বড় পরিসরে তেল মজুদ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাতের বেলায় ট্রলারযোগে তেল এনে সকালে বিভিন্ন ঠিকাদার ও পরিবহন মালিকদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো।

অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে আল-আমিন (২৭) ও মো. মাসুদ (৪০) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত আলমগীর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। গুদামের জমির মালিক নুর বক্সের দুই ছেলে আরিফ ও আশরাফকেও এ চক্রের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পতেঙ্গা থানার কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গুদামটি শনাক্ত করা হয়। সেখানে মজুদকৃত তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার করা তেলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহমেদ বলেন, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে কম দামে ডিজেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রি করে আসছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তেল মজুদ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পতেঙ্গা-কর্ণফুলী উপকূলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চোরাই তেলের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই অভিযান বড় ধরনের বার্তা দিল।