
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং দায়সারাভাবে কাজ করায় নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই পিলারের ঢালাই সামান্য চাপ দিলেই ঝরে পড়ছে। তদারকি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে স্থানীয় সচেতন মহল।
উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক এই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পিলারের ঢালাইয়ে ইটের খোয়া ব্যবহারের চেয়ে বালু ও ডাস্টের পরিমাণ ছিল কয়েকগুণ বেশি। এমনকি সিমেন্টের পরিমাণ এতটাই কম ছিল যে, ঢালাইগুলো জমাট বাঁধেনি। রডের সেন্টারিং যথাযথ না হওয়ায় কাঠামোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঢালাইয়ের মিশ্রণে সিমেন্ট ছিল নামমাত্র। রডের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। পিলারের ফিনিশিং এতই খারাপ যে, হাতের ছোঁয়ায় পাথর-বালি খসে পড়ছে। এটি নির্মাণ নয়, সরকারি টাকা আত্মসাতের উৎসব।”
অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উল্টো দম্ভোক্তি করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ভাগিনা পরিচয়দানকারী নয়ন নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের তোয়াক্কা না করে তিনি দাপটের সাথে বলেন, “ঢালাই দাও, যা হয় হবে। আমার মামা নাটোরের বড় ঠিকাদার, আমার মামা কম না।” ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন দাম্ভিক আচরণে কাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে কাউকে না জানিয়ে তাড়াহুড়ো করে নিম্নমানের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এসে দেখি বালু বেশি, সিমেন্ট কম। পিলারগুলো বাঁকা এবং অত্যন্ত দুর্বল। হাত দিয়ে ধরলেই তা ভেঙে পড়ছে। আমরা বিষয়টি সাথে সাথে উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে জানিয়েছি।”
বাগাতিপাড়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ ২৯শে মার্চ বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ ভয়াবহ কম এবং রডের সেন্টারিংয়ে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। তিনি জানান, ঠিকাদারকে তলব করা হয়েছে এবং নিম্নমানের কাজ পুনরায় সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের হরিলুট বা অনিয়ম তারা বরদাশত করবেন না। তারা অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ কাজ ভেঙে ফেলে শিডিউল মোতাবেক নতুন করে কাজ করার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক বা আর্থিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে যদি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 



















