ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
রামেকে সমন্বয়হীনতার নির্মম চিত্র

হাম উপসর্গে মৃত্যুর ৩ দিন পর আইসিইউ থেকে ভর্তির জন্য ফোন পেলেন বাবা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক নির্মম বাস্তবতা যেন আরও একবার সামনে এলো। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আইসিইউ শয্যা না পেয়ে মারা যায় ১০ বছর বয়সী ফাতিমা খাতুন। অথচ মৃত্যুর তিন দিন পর হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ থেকেই তাকে ভর্তি করার জন্য ফোন করা হয়—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।

জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হারুন আলী ও সোনিয়া বেগমের মেয়ে ফাতিমা খাতুন গত প্রায় ১৫ দিন ধরে হামের উপসর্গে ভুগছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৩০ মার্চ সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে সারাদিন চেষ্টা করেও আইসিইউতে কোনো শয্যার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সেদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আইসিইউ সেবা ছাড়াই মারা যায় ফাতিমা।

কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়। পরিবারের অভিযোগ, ফাতিমার মৃত্যুর তিন দিন পর, ২ এপ্রিল বিকেলে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ থেকে তাদের মোবাইলে ফোন করে শিশুটিকে আইসিইউতে ভর্তি করার জন্য বলা হয়। অথচ ততক্ষণে শিশুটির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ফাতিমার মা সোনিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। ডাক্তাররা আইসিইউতে নিতে বলেছিলেন, কিন্তু পাইনি। পরে ফোন দিয়ে বলে আইসিইউতে নিতে-কিন্তু তখন তো আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই। কাকে নিয়ে যাব?”

পেশায় রিকশাচালক বাবা হারুন আলী ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “গরিব মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই। আইসিইউর জন্য ছুটেছি, পাইনি। আর এখন, মেয়ের মৃত্যুর তিন দিন পর ফোন দেয়। এটা কষ্ট না, বুক ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা।”

স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার একটি দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে আইসিইউ ব্যবস্থাপনায় তথ্য হালনাগাদের ঘাটতি এবং রোগী ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, জরুরি রোগীদের জন্য আইসিইউ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও সমন্বিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দায় নির্ধারণের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, সময়মতো আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো একটি নিষ্পাপ প্রাণ রক্ষা পেত।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

রামেকে সমন্বয়হীনতার নির্মম চিত্র

হাম উপসর্গে মৃত্যুর ৩ দিন পর আইসিইউ থেকে ভর্তির জন্য ফোন পেলেন বাবা

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক নির্মম বাস্তবতা যেন আরও একবার সামনে এলো। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আইসিইউ শয্যা না পেয়ে মারা যায় ১০ বছর বয়সী ফাতিমা খাতুন। অথচ মৃত্যুর তিন দিন পর হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ থেকেই তাকে ভর্তি করার জন্য ফোন করা হয়—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।

জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হারুন আলী ও সোনিয়া বেগমের মেয়ে ফাতিমা খাতুন গত প্রায় ১৫ দিন ধরে হামের উপসর্গে ভুগছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৩০ মার্চ সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে সারাদিন চেষ্টা করেও আইসিইউতে কোনো শয্যার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সেদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আইসিইউ সেবা ছাড়াই মারা যায় ফাতিমা।

কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়। পরিবারের অভিযোগ, ফাতিমার মৃত্যুর তিন দিন পর, ২ এপ্রিল বিকেলে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ থেকে তাদের মোবাইলে ফোন করে শিশুটিকে আইসিইউতে ভর্তি করার জন্য বলা হয়। অথচ ততক্ষণে শিশুটির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ফাতিমার মা সোনিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। ডাক্তাররা আইসিইউতে নিতে বলেছিলেন, কিন্তু পাইনি। পরে ফোন দিয়ে বলে আইসিইউতে নিতে-কিন্তু তখন তো আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই। কাকে নিয়ে যাব?”

পেশায় রিকশাচালক বাবা হারুন আলী ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “গরিব মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই। আইসিইউর জন্য ছুটেছি, পাইনি। আর এখন, মেয়ের মৃত্যুর তিন দিন পর ফোন দেয়। এটা কষ্ট না, বুক ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা।”

স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার একটি দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে আইসিইউ ব্যবস্থাপনায় তথ্য হালনাগাদের ঘাটতি এবং রোগী ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, জরুরি রোগীদের জন্য আইসিইউ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও সমন্বিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দায় নির্ধারণের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, সময়মতো আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো একটি নিষ্পাপ প্রাণ রক্ষা পেত।