
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতদারি, গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে তিন ব্যবসায়ীকে মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান। অভিযানে সহায়তা করেন এনএসআই (NSI)-এর একটি গোয়েন্দা দল এবং গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরিকল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চর সরিকল গ্রামের সুনিল সিকদারের হাট সংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখান থেকে প্রায় ৩০০ লিটার ডিজেল, ২০০ লিটার মবিল এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করে। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত না থাকার অঙ্গীকারে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
জব্দকৃত জ্বালানি তেল সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় এক গণ্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এদিকে, একই দিনে সরিকল বাজারে মনিটরিং চালিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ না করার অভিযোগে আরও দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, “দাহ্য পদার্থ অবৈধভাবে মজুত ও বিক্রির কারণে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছিল। প্রশাসনের এ অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের তদারকি জোরদার করা হবে।
সৈয়দ নুর আহছান, বরিশাল 



















