ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

ময়মনসিংহে শত বছর পুরনো নগরীতে রাজ রাজেস্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস্ বিলুপ্তির পথে

রাজ রাজেস্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস্ । ছবি- দৈনিক অধিকার

মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী তাঁর স্ত্রীর নামে ১৮৮৯ সালে ময়মনসিংহ নগরীর বর্তমান সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সংলগ্ন পৌর মার্কেটের পেছনে স্থাপন করেন রাজ রাজেস্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস্ । কালের আবর্তে এটি বিলুপ্তির পথে, শত বছর প্রাচীন এই নির্দশন সংরক্ষনের দাবী জানিয়েছে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি ।

ময়মনসিংহ নগরীর বর্তমান সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সংলগ্ন পৌর মার্কেটের পেছনে এর অবস্থান। মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী নগরীতে পানীয় জল সরবরাহের জন্য রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস স্থাপন করেন। যার নির্মাণকাল ১৮৮৯-১৮৯০ সাল। কথিত আছে, মহারাজের স্ত্রী স্বর্গীয় রাজ রাজেশ্বরী দেবী একবার কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হন। পীড়াটি ছিল দুরারোগ্য। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পানীয়জল খেতে নিষেধ করা হয়। অবশেষে তিনি পানীয়জল পান না করেই মৃত্যুবরণ করেন।

মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী স্ত্রীকে গভীরভাবে ভালবাসতেন। স্ত্রীর স্মৃতিকে অমর করে রাখার লক্ষ্যে তিনি এই জনহিতকর কার্যটি সম্পাদন করেন। এটিই ছিল ময়মনসিংহ শহরে পানীয়জলের প্রথম যান্ত্রিক উপায়ে সরবরাহ কেন্দ্র। ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে এটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে মোট সময় লাগে প্রায় এক বছর। নির্মাণে ব্যয় হয় তখনকার সময়ের প্রায় দেড় লাখ টাকা। নির্মাণের পর প্রথম তিন বছর রাজা বাহাদুরের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হতো। পরবর্তিতে ১৮৯৩ সালে এই ওয়াটার ওয়ার্কসের দায়িত্ব ময়মনসিংহ পৌরসভার উপর ন্যস্ত করা হয় । দীর্ঘ ৮০ বছর ময়মনসিংহ শহরে পানীয়জলের প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র ছিল এই ওয়াটার ওয়ার্কসটি।

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে পানি তুলে প্রথমে তা বিভিন্ন জলাধারে কয়েক দিন রেখে শোধন করা হতো। তারপর সেই পানি যান্ত্রিক উপায়ে পানির ট্যাংকিতে তুলে তা বিভিন্ন মহল্লায় সরবরাহ করা হতো। দীর্ঘদিন যাবৎ ওয়াটার ওয়ার্কসটি একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে এখানে দর্শনার্থী ভিড় জমান। একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এই ওয়াটার ওয়ার্কসটির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। নগরীতে পানি সরবরাহের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের ‘‘পঞ্চ জেলা পানি সরবরাহ পরিকল্পনার’’ অধীন।

যুগ যুগ ধরে রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কসটি সংস্কারবিহীন চরম অবহেলায় পড়ে থাকায় দিনদিন আগাছা জন্মে ও ময়লা পড়ে পুরাকীর্তির আদল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি। অথচ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে তা সহজেই পুরাকীর্তি নিদর্শন হিসেবে প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা যায়।

পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পুরাকীর্তি জাতির ক্রমবিকাশের চাক্ষুষ ইতিহাস। যার মাধ্যমে প্রজন্ম জাতির ক্রমবিকাশের ইতিহাস সমন্ধে জ্ঞান লাভ করে। বাংলাদেশের রয়েছে পুরাকীর্তির ভান্ডার। যার একটি উল্লেখ্য ভান্ডার রয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। কিন্তুু দু:খজনক সত্য হলো, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে আজ অতি মূল্যবান পুরাকীর্তি সমূহের অবস্থা জীর্ণশীর্ণ। যথাযথ দেখভাল না থাকায় পুরাকীর্তিসমূহ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চলতে থাকলে দিনদিন পুরাকীর্তির ভান্ডার কমে যাবে। তিনি শতাব্দী প্রাচীন রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কসটি পুরাকীর্তি নিদর্শন হিসেবে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক সংরক্ষণ করার জোর দাবী জানান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, আবীর হোসেন, নাজমুল হাসান রাজু খান প্রমূখ।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ময়মনসিংহে শত বছর পুরনো নগরীতে রাজ রাজেস্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস্ বিলুপ্তির পথে

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী তাঁর স্ত্রীর নামে ১৮৮৯ সালে ময়মনসিংহ নগরীর বর্তমান সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সংলগ্ন পৌর মার্কেটের পেছনে স্থাপন করেন রাজ রাজেস্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস্ । কালের আবর্তে এটি বিলুপ্তির পথে, শত বছর প্রাচীন এই নির্দশন সংরক্ষনের দাবী জানিয়েছে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি ।

ময়মনসিংহ নগরীর বর্তমান সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সংলগ্ন পৌর মার্কেটের পেছনে এর অবস্থান। মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী নগরীতে পানীয় জল সরবরাহের জন্য রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস স্থাপন করেন। যার নির্মাণকাল ১৮৮৯-১৮৯০ সাল। কথিত আছে, মহারাজের স্ত্রী স্বর্গীয় রাজ রাজেশ্বরী দেবী একবার কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হন। পীড়াটি ছিল দুরারোগ্য। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পানীয়জল খেতে নিষেধ করা হয়। অবশেষে তিনি পানীয়জল পান না করেই মৃত্যুবরণ করেন।

মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী স্ত্রীকে গভীরভাবে ভালবাসতেন। স্ত্রীর স্মৃতিকে অমর করে রাখার লক্ষ্যে তিনি এই জনহিতকর কার্যটি সম্পাদন করেন। এটিই ছিল ময়মনসিংহ শহরে পানীয়জলের প্রথম যান্ত্রিক উপায়ে সরবরাহ কেন্দ্র। ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে এটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে মোট সময় লাগে প্রায় এক বছর। নির্মাণে ব্যয় হয় তখনকার সময়ের প্রায় দেড় লাখ টাকা। নির্মাণের পর প্রথম তিন বছর রাজা বাহাদুরের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হতো। পরবর্তিতে ১৮৯৩ সালে এই ওয়াটার ওয়ার্কসের দায়িত্ব ময়মনসিংহ পৌরসভার উপর ন্যস্ত করা হয় । দীর্ঘ ৮০ বছর ময়মনসিংহ শহরে পানীয়জলের প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র ছিল এই ওয়াটার ওয়ার্কসটি।

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে পানি তুলে প্রথমে তা বিভিন্ন জলাধারে কয়েক দিন রেখে শোধন করা হতো। তারপর সেই পানি যান্ত্রিক উপায়ে পানির ট্যাংকিতে তুলে তা বিভিন্ন মহল্লায় সরবরাহ করা হতো। দীর্ঘদিন যাবৎ ওয়াটার ওয়ার্কসটি একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে এখানে দর্শনার্থী ভিড় জমান। একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এই ওয়াটার ওয়ার্কসটির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। নগরীতে পানি সরবরাহের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের ‘‘পঞ্চ জেলা পানি সরবরাহ পরিকল্পনার’’ অধীন।

যুগ যুগ ধরে রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কসটি সংস্কারবিহীন চরম অবহেলায় পড়ে থাকায় দিনদিন আগাছা জন্মে ও ময়লা পড়ে পুরাকীর্তির আদল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি। অথচ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে তা সহজেই পুরাকীর্তি নিদর্শন হিসেবে প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা যায়।

পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পুরাকীর্তি জাতির ক্রমবিকাশের চাক্ষুষ ইতিহাস। যার মাধ্যমে প্রজন্ম জাতির ক্রমবিকাশের ইতিহাস সমন্ধে জ্ঞান লাভ করে। বাংলাদেশের রয়েছে পুরাকীর্তির ভান্ডার। যার একটি উল্লেখ্য ভান্ডার রয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। কিন্তুু দু:খজনক সত্য হলো, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে আজ অতি মূল্যবান পুরাকীর্তি সমূহের অবস্থা জীর্ণশীর্ণ। যথাযথ দেখভাল না থাকায় পুরাকীর্তিসমূহ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চলতে থাকলে দিনদিন পুরাকীর্তির ভান্ডার কমে যাবে। তিনি শতাব্দী প্রাচীন রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কসটি পুরাকীর্তি নিদর্শন হিসেবে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক সংরক্ষণ করার জোর দাবী জানান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, আবীর হোসেন, নাজমুল হাসান রাজু খান প্রমূখ।