
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছেন মাসুমা সুলতানা (৩০) নামে এক গৃহবধূ। তিনি একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন—যার মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। বর্তমানে মা ও নবজাতকরা সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের দিঘাব গ্রামের বাসিন্দা মাসুমা সুলতানা শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাকে ঢাকায় ভর্তি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এ। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তবে চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সতর্কতায় সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
চিকিৎসা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রুহুল আমিন। তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে মা ও নবজাতকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ মগারটেক এলাকায় অবস্থিত মডিউল কমিউনিটি হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুজ্জামান সেলিম জানান, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম একটি বিরল এবং জটিল ঘটনা। এমন ক্ষেত্রে মা ও নবজাতকদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়। তবে এই ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মা ও শিশুদের সুস্থ রাখা সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক আশরাফুল আলম সোহেল বলেন, নবজাতকদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর শুক্রবার রাতে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে পাঁচ নবজাতকই ভালো আছে।
এদিকে, একসঙ্গে পাঁচ সন্তান পাওয়ায় আনন্দে ভাসছে পরিবারটি। নবজাতকদের বাবা কাজল মিয়া সৌদি আরব প্রবাসী হলেও বর্তমানে পরিবারের দেখভালের দায়িত্বে আছেন স্বজনরা। এর আগে তাদের একটি নয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে।
তবে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারটি। স্থানীয়ভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল এই পরিবারটি নবজাতকদের লালন-পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে। একইসঙ্গে মা ও শিশুদের সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।
চিকিৎসকরা বলছেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার এখন সম্ভব হচ্ছে। তবে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধান অপরিহার্য।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















