
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় যেন চলছে রাস্তা দখলের নীরব প্রতিযোগিতা। সরকারি রাস্তার জমি জোরপূর্বক দখল করে বাড়ি নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর তোলার ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এতে শুধু চলাচলই নয়, বন্ধ হয়ে গেছে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ—ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানিতে ডুবে যাচ্ছে পুরো এলাকা।
উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কান্তিনগর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের দুই পাশ ভরাট করে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছেন রাস্তার বড় অংশ। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার জায়গা দখল করে সেখানে তোলা হয়েছে সীমানা প্রাচীর, কোথাও আবার চলছে বাড়ি নির্মাণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত সাজ্জাদ আলী মন্ডলের ছেলে মজলুর রহমান, জবুর ছেলে কাইয়ুম আলী এবং আলতুর রহমান প্রকাশ্যে এই দখলকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। মজলুর রহমান ইতোমধ্যে রাস্তার ওপর ঢালাই ফেলে পথ সংকুচিত করে ফেলেছেন, ফলে সাধারণ পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কাদা আর জমে থাকা পানির মধ্যে দিয়েই তাদের যেতে হচ্ছে স্কুলে। এলাকাবাসীর ভাষায়, “একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা না, যেন ছোটখাটো খাল হয়ে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আলী, জেন্টু ও জমিমসহ অনেকে জানান, এই একটি সড়কের ওপর নির্ভর করে আশপাশের অন্তত তিনটি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ চলাচল করেন। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন দখল আর নির্মাণের কবলে পড়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, রাস্তার দুই পাশ ভরাট করে দেওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে থেকে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা তৈরি করছে, যা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে মজলুর রহমান বলেন, “সরকারি জমি যদি দখল হয়ে থাকে, আমি তা ছেড়ে দেবো। রাস্তার ওপর যে ইট-বালুর ভাঙারি আছে, সেগুলোও সরিয়ে নেবো।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত কাইয়ুম আলী ও আলতুর রহমানকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা নারী মানুষ, এসব বিষয়ে কিছু জানি না। তারা বাড়িতে এলে জানানো হবে।”
এ বিষয়ে মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক মাহমুদ মিয়া বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—“খতিয়ে দেখা”র এই দীর্ঘসূত্রিতা আর কতদিন? তাদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে রাস্তা দখলমুক্ত করে জনভোগান্তির অবসান ঘটাতে হবে।
নচেৎ, একটি গ্রামের নয়—পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















