
পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী আনন্দঘন পরিবেশে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ), বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’। রোববার সকালে নগরীর প্ল্যানেট পার্ক-এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় চিকিৎসক, হাসপাতাল মালিক ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারবর্গও অংশগ্রহণ করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্বাস্থ্যখাতের পেশাজীবীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ এ কে এম মশিউল মুনীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল।
এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের সিভিল সার্জন ডাঃ এস. এম. মঞ্জুর এলাহী, বিপিএইচসিডিএ বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি কাজী মিরাজ মাহমুদ এবং কোষাধ্যক্ষ কাজী আল মামুনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিপিএইচসিডিএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি কে. এম. শহিদুল্লাহ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যখাত দেশের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই খাতের উন্নয়ন ও সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে আরও মানসম্পন্ন, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব হতে হবে। রোগীদের আস্থা অর্জনে সেবার মান, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
তারা আরও উল্লেখ করেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি খাত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে। তাই এই খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সেবার গুণগত মান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
আলোচনা পর্ব শেষে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে সংগীত, নৃত্য এবং বিনোদনমূলক পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। প্রাণবন্ত এই পরিবেশনায় অংশ নেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
সবশেষে মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এমন আয়োজন পেশাজীবীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকলে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাত আরও সুসংগঠিত হবে এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পথ সুগম হবে।
সৈয়দ নুর আহছান, বরিশাল 



















