
বরিশালের গৌরনদীতে খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক নবজাতক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং মানবিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে গৌরনদী-ধামুরা খালের আশোকাঠী বনবিভাগ সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশোকাঠী গ্রামের ফিরোজ সরদারের ছেলে ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ওয়ারিদ রহমান জয় তার দুই বন্ধুকে নিয়ে প্রতিদিনের মতো খালে গোসল করতে নামে। দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে তারা পানির মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু ভাসতে দেখে সন্দেহ করে। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পায়, সেটি একটি নবজাতক শিশুর মরদেহ।
পরে তারা লাঠি দিয়ে মরদেহটি খালের পাড়ে তুলে স্থানীয়দের খবর দেয়। মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায় উৎসুক জনতার।
খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নবজাতক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের পরপরই শিশুটিকে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের নির্মম ঘটনা সমাজের অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একটি নবজাতকের এভাবে পরিত্যক্ত হয়ে মৃত্যু শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবিকতার নির্মম পতনের প্রতিচ্ছবি—যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করছে।
সৈয়দ নুর আহছান, বরিশাল 



















