
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় বড়াল নদীকে ঘিরে চলছে প্রকাশ্য ‘মাটি লুটের উৎসব’। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নদীর তলদেশ কেটে সেই মাটি সড়ক নির্মাণে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার মাঠে নেমেছে ছাত্রদল—তাদের তীব্র প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারির মুখে আপাতত বন্ধ হয়েছে মাটিকাটা কার্যক্রম। একই সঙ্গে থানা ও উপজেলা প্রশাসন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে তারা।
উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া ইক্ষু সেন্টারের দক্ষিণে জালালপুর এলাকার বড়াল নদীর বুক চিরে চলছিল এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। সরেজমিনে দেখা যায়, কোদাল দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে মাটি কেটে পাওয়ার ট্রলির মাধ্যমে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব মাটি তমালতলা থেকে জামনগর পকেট খালি মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযোগের সত্যতা জানতে পেরে জামনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রায়হান রেজা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে বড়াল নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন,
“ওসি ও ইউএনওকে বারবার জানানো সত্ত্বেও যদি এই অবৈধ মাটিকাটা বন্ধ না হয়, তাহলে আমরা থানা ও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাও করতে বাধ্য হব।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঁশবাড়িয়া এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিবাদ ও সরাসরি হস্তক্ষেপে মাটিকাটা বন্ধ করে দ্রুত সটকে পড়ে অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবদল কর্মী বলেন,
“এই মাটিকাটার সঙ্গে এলাকার প্রভাবশালী মহল জড়িত। তাদের ইন্ধনেই এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এক ব্যক্তি এখন বিএনপির পরিচয়ে নিজের ট্রলিতে করে মাটি বিক্রি করছেন।”
এদিকে বাগাতিপাড়া থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন,
“বাগাতিপাড়ায় আর এক কোদাল অবৈধ মাটি কাটতে দেওয়া হবে না। সকল অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে ছাত্রদল সবসময় মাঠে ছিল, আছে এবং থাকবে।”
তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল হান্নান বলেন,
“বড়াল নদী থেকে মাটিকাটার বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান,“খবর পেয়ে তহশীলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হবে। এতে ভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রশাসনের নীরবতা আর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নদী ‘খেকোদের’ দৌরাত্ম্য কতদূর গড়াবে—তা এখন বড় প্রশ্ন। তবে ছাত্রদলের মাঠে নামা নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, হুঁশিয়ারির পর বাস্তবেই বন্ধ হয় কি না বড়াল নদীর এই অবৈধ লুটপাট।
সাজেদুর রহমান,নাটোর 



















