ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
সরকারি জমিতে আড়ৎ!

“ সাপাহারে প্রভাবের দাপটে রাস্তা দখল, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী”

সাপাহারে সরকারি জমি দখল করে আড়ৎ ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

নওগাঁর সাপাহারে সরকারি জমি দখল করে আড়ৎ ঘর নির্মাণের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার করলডাঙ্গা ও লালমাটিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে এমন দখলদারির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় জনতা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে সরকারি রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে, ফলে জনসাধারণের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ঘটনায় গত ১২ এপ্রিল গ্রামবাসীর পক্ষে শিমুলতলী গ্রামের মৃত হুমায়ন কবিরের ছেলে মো. রাকিব হাসান সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। প্রায় শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা প্রকৌশলী ও সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পত্নীতলা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মো. রাকিবুল হাসান করলডাঙ্গা মৌজার দাগ নং ৬১৯ ও ৬১৭ নম্বর জমি ক্রয় করেন। জমিটির উত্তর ও পূর্ব পাশে সরকারি রাস্তা থাকলেও তিনি নিজের জমির সীমানা অতিক্রম করে সেই রাস্তার একটি অংশ দখল করে টিনের আড়ৎ ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে এলাকাবাসী বাধা দিলে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পরে কৌশলে কাঁটাতারের বেড়া ও টিনের কাঠামো দিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ সরকারি জমি দখলে নেওয়া হয়। এতে শুধু রাস্তা সংকুচিত হয়নি, বরং ভবিষ্যতে পুরো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল এলাকাবাসী নিজেরাই জমি পরিমাপ করে দেখেন, নির্মিত আড়ৎ ঘরের বর্তমান অবস্থান প্রকৃত জমির সীমানা থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট ভেতরে হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে তা অতিক্রম করে সরকারি জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“কিছুটা সরকারি জায়গা আমার আড়তের মধ্যে পড়েছে। তবে এর জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।”
তার এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাদেকুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দখলমুক্ত করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলদারির কারণে সরকারি জমি একের পর এক বেহাত হচ্ছে। এবারও যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি জমি উদ্ধার করে রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন অনিয়ম করার সাহস না পায়।

ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

সরকারি জমিতে আড়ৎ!

“ সাপাহারে প্রভাবের দাপটে রাস্তা দখল, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী”

প্রকাশের সময়ঃ ০১:২২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর সাপাহারে সরকারি জমি দখল করে আড়ৎ ঘর নির্মাণের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার করলডাঙ্গা ও লালমাটিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে এমন দখলদারির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় জনতা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে সরকারি রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে, ফলে জনসাধারণের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ঘটনায় গত ১২ এপ্রিল গ্রামবাসীর পক্ষে শিমুলতলী গ্রামের মৃত হুমায়ন কবিরের ছেলে মো. রাকিব হাসান সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। প্রায় শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা প্রকৌশলী ও সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পত্নীতলা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মো. রাকিবুল হাসান করলডাঙ্গা মৌজার দাগ নং ৬১৯ ও ৬১৭ নম্বর জমি ক্রয় করেন। জমিটির উত্তর ও পূর্ব পাশে সরকারি রাস্তা থাকলেও তিনি নিজের জমির সীমানা অতিক্রম করে সেই রাস্তার একটি অংশ দখল করে টিনের আড়ৎ ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে এলাকাবাসী বাধা দিলে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পরে কৌশলে কাঁটাতারের বেড়া ও টিনের কাঠামো দিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ সরকারি জমি দখলে নেওয়া হয়। এতে শুধু রাস্তা সংকুচিত হয়নি, বরং ভবিষ্যতে পুরো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল এলাকাবাসী নিজেরাই জমি পরিমাপ করে দেখেন, নির্মিত আড়ৎ ঘরের বর্তমান অবস্থান প্রকৃত জমির সীমানা থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট ভেতরে হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে তা অতিক্রম করে সরকারি জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“কিছুটা সরকারি জায়গা আমার আড়তের মধ্যে পড়েছে। তবে এর জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।”
তার এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাদেকুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দখলমুক্ত করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলদারির কারণে সরকারি জমি একের পর এক বেহাত হচ্ছে। এবারও যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি জমি উদ্ধার করে রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন অনিয়ম করার সাহস না পায়।

ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।