
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘যেই হবে স্বৈরাচার, তাকেই বলবো বাংলা ছাড়’, ‘যদি হয় স্বৈরাচার, জুলাই ফিরবে বার বার’, ‘তারেক রহমানের অনেকগুন, সারা বাংলায় মানুষ খুন’, ‘খাম্বা আছে কারেন্ট নাই, পাম্প আছে তেল নাই’ ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’, ‘শিক্ষা-রামদা একসাথে চলে না’, ‘সিটি কলেজে হামলা কেন প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ধরে ধরে ধরে না ধরলে শিবির ছাড়ে না,’ ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ মারার মাস্ট্যার প্ল্যান’, ‘লীগ গেছে যেই পথে দল যাবে সেই পথে’, ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’ শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ সময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলীর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া, অফিস সম্পাদক আসিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “আজ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে নিয়মিত ক্লাস করতে আসা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা দেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। আমরা দেখেছি খুনি হাসিনা ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিত বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারা হতো। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে সেই একই কাজ শুরু করেছে তারেকীয় বাহিনী। আগে ‘শিবির’ হিসেবে শিবিরকে মারা জায়েজ করেছিল, এখন ‘গুপ্ত’ হিসেবে শিবিরকে মারা জায়েজ করতে চাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, এটা রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে শিবিরের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানোর জন্য।”
এসময় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন,
আমরা লক্ষ্য করেছি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি দল দেশকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে যেখানে সেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, গুন্ডামি, মাস্তানি সয়লাব ছড়িয়ে দিয়েছে, অসংখ্য ভাইকে এবং এমনকি তাদের নিজেদের দলের অসংখ্য কর্মীকে পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অসংখ্য মা-বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তেজগাঁও কলেজে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এরকম আরও অসংখ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই যাচ্ছে আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দেখতে পাই নাই। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত একজন ছাত্রদলের কোনো সন্ত্রাসীকে পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয় নাই।
তিনি আরো বলেন, আজকে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে প্রকাশ্যে রামদা দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে শিবির কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তারা আমার ভাইয়ের পায়ের গোড়ালিকে রামদার আঘাতে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।এই সন্ত্রাস আমরা আর সহ্য করব না। সময় থাকতে সতর্ক হয়ে না যান, তাহলে না হলে ছাত্রশিবির সন্ত্রাস ছাত্রদলকে এদেশ থেকে উৎখাত করে দিবে। এদেশ থেকে ছাত্রলীগের মত বিতাড়িত করবে। আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য, সন্ত্রাসীরা একত্রিত হয়েছে ছাত্রদলের ব্যানারে। সাবধান হয়ে না যান, প্রতিটি সন্ত্রাসীর পিঠের চামড়া আমরা তুলে নিতে বাধ্য হবো।
ইবি প্রতিনিধিঃ 



















