ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

মহিলা দল নেত্রীর হয়ে এসএসসি পরীক্ষা- বগুড়ায় কলেজছাত্রী আটক

মহিলাদল নেত্রী নিপা খাতুন ও কলেজছাত্রী ঈশিতা আক্তার তিশা (বাঁ দিক থেকে)। সংগৃহীত ছবি।

বগুড়ায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে এক কলেজছাত্রী হাতেনাতে আটক হয়েছেন। মহিলা দলের এক নেত্রীর হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে ধরা পড়ার ঘটনায় জেলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষার্থীর নাম ঈশিতা আক্তার তিশা (১৮)। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ-এর উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা জীবন শেখের মেয়ে।

পুলিশ ও কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর অধীনে এসএসসি (দ্বিতীয় বর্ষ) প্রোগ্রামের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ওই কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন বগুড়া শহর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিপা খাতুন। তিনি একই এলাকার জাইদুল ইসলামের স্ত্রী।

তবে বাস্তবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন তার প্রতিবেশী কলেজছাত্রী ঈশিতা আক্তার তিশা। পরিকল্পনা ছিল নিপা খাতুনের হয়ে গোপনে পরীক্ষা দেওয়া। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালে কক্ষ পরিদর্শকের তীক্ষ্ণ নজরে ধরা পড়ে যায় পুরো ঘটনা।

উত্তরপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারার অমিল দেখে সন্দেহ জাগে পরিদর্শকের। তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়েন ঈশিতা। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন—তিনি প্রকৃত পরীক্ষার্থী নন, অন্যের হয়ে ‘প্রক্সি’ দিতে এসেছেন। ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

বগুড়া সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, আটক শিক্ষার্থী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, নিপা খাতুন তার খালা হন। সেই পারিবারিক সম্পর্কের কারণেই তিনি এ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়েছেন।

ওসি আরও বলেন, “পরীক্ষা সংক্রান্ত এই ধরনের জালিয়াতি গুরুতর অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঘটনার পর থেকেই মূল পরীক্ষার্থী ও অভিযুক্ত মহিলা দল নেত্রী নিপা খাতুন পলাতক রয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রক্সি কেলেঙ্কারি শুধু পরীক্ষার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি বগুড়ায় শিক্ষাঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

মহিলা দল নেত্রীর হয়ে এসএসসি পরীক্ষা- বগুড়ায় কলেজছাত্রী আটক

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে এক কলেজছাত্রী হাতেনাতে আটক হয়েছেন। মহিলা দলের এক নেত্রীর হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে ধরা পড়ার ঘটনায় জেলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষার্থীর নাম ঈশিতা আক্তার তিশা (১৮)। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ-এর উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা জীবন শেখের মেয়ে।

পুলিশ ও কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর অধীনে এসএসসি (দ্বিতীয় বর্ষ) প্রোগ্রামের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ওই কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন বগুড়া শহর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিপা খাতুন। তিনি একই এলাকার জাইদুল ইসলামের স্ত্রী।

তবে বাস্তবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন তার প্রতিবেশী কলেজছাত্রী ঈশিতা আক্তার তিশা। পরিকল্পনা ছিল নিপা খাতুনের হয়ে গোপনে পরীক্ষা দেওয়া। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালে কক্ষ পরিদর্শকের তীক্ষ্ণ নজরে ধরা পড়ে যায় পুরো ঘটনা।

উত্তরপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারার অমিল দেখে সন্দেহ জাগে পরিদর্শকের। তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়েন ঈশিতা। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন—তিনি প্রকৃত পরীক্ষার্থী নন, অন্যের হয়ে ‘প্রক্সি’ দিতে এসেছেন। ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

বগুড়া সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, আটক শিক্ষার্থী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, নিপা খাতুন তার খালা হন। সেই পারিবারিক সম্পর্কের কারণেই তিনি এ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়েছেন।

ওসি আরও বলেন, “পরীক্ষা সংক্রান্ত এই ধরনের জালিয়াতি গুরুতর অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঘটনার পর থেকেই মূল পরীক্ষার্থী ও অভিযুক্ত মহিলা দল নেত্রী নিপা খাতুন পলাতক রয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রক্সি কেলেঙ্কারি শুধু পরীক্ষার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি বগুড়ায় শিক্ষাঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।