ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

রেললাইনে বসে ‘গাঁজা সেবন- ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিমড়া-বানাশুয়া গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।সংগৃহীত ছবি।

কুমিল্লায় রেললাইনে বসে গাঁজা সেবনের সময় ট্রেনের ধাক্কায় কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে আদর্শ সদর উপজেলার শিমড়া-বানাশুয়া গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় ঘটে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এক যুবক রেললাইনের ওপর বসে ধূমপান করছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রেন কয়েকবার হুইসেল দিলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। আশপাশের লোকজন চিৎকার করেও তাকে সরাতে পারেননি। একপর্যায়ে মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর মরদেহের পাশে একটি পুঁটলিতে গাঁজা পাওয়া যায়, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশর একটি দল কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা পাঠানো হয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন খন্দকার বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে অবহিত করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে হাতের ছাপ পরীক্ষা করা হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই দুর্ঘটনায় আবারও রেললাইন নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, অনেকেই অসচেতনভাবে রেললাইনে বসে আড্ডা দেওয়া বা ধূমপানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করেন, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেললাইনের আশপাশে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল জোরদার এবং মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।

মৃত যুবকের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একটি অসচেতন মুহূর্ত, মাদকাসক্তির প্রভাব এবং সতর্ক সংকেত উপেক্ষা—সব মিলিয়ে এই ঘটনা যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, রেললাইন কখনোই নিরাপদ বসার জায়গা নয়; এটি জীবন-মৃত্যুর সীমানা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

রেললাইনে বসে ‘গাঁজা সেবন- ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লায় রেললাইনে বসে গাঁজা সেবনের সময় ট্রেনের ধাক্কায় কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে আদর্শ সদর উপজেলার শিমড়া-বানাশুয়া গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় ঘটে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এক যুবক রেললাইনের ওপর বসে ধূমপান করছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রেন কয়েকবার হুইসেল দিলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। আশপাশের লোকজন চিৎকার করেও তাকে সরাতে পারেননি। একপর্যায়ে মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর মরদেহের পাশে একটি পুঁটলিতে গাঁজা পাওয়া যায়, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশর একটি দল কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা পাঠানো হয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন খন্দকার বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে অবহিত করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে হাতের ছাপ পরীক্ষা করা হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই দুর্ঘটনায় আবারও রেললাইন নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, অনেকেই অসচেতনভাবে রেললাইনে বসে আড্ডা দেওয়া বা ধূমপানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করেন, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেললাইনের আশপাশে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল জোরদার এবং মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।

মৃত যুবকের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একটি অসচেতন মুহূর্ত, মাদকাসক্তির প্রভাব এবং সতর্ক সংকেত উপেক্ষা—সব মিলিয়ে এই ঘটনা যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, রেললাইন কখনোই নিরাপদ বসার জায়গা নয়; এটি জীবন-মৃত্যুর সীমানা।