ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন, নাটোরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা, যন্ত্রপাতি জব্দ

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ১২টার দিকে পরিচালিত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নাটোর সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের দত্তপাড়া পান মোকামের পাশে হিন্দুপাড়ায় কৃষিজমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ খনন কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ করে কঠোর বার্তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ১২টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে আবু তাহেরের ছেলে মো. বাবুকে পরিবেশ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের আলোকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি ব্যাটারি, ১টি স্যালো মেশিন এবং একটি ভেকুর যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় করিম হাজির জমিতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খননের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ আহমেদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও অংশ নেন।

প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের মাধ্যমে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে মাটি কেটে গভীর গর্ত তৈরির ফলে আশপাশের জমি ধসে যাওয়া, পানি নিষ্কাশনে সমস্যা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরিবর্তন এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ আহমেদ বলেন, “কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না। অবৈধভাবে পুকুর খনন, টপ সয়েল কাটা কিংবা পরিবেশ বিধ্বংসী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন করে আসছিলেন। এতে এলাকার ফসলি জমি কমে যাচ্ছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। প্রশাসনের এই অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অবৈধ খননের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষিপ্রধান জেলায় নির্বিচারে পুকুর খনন রোধে শুধু অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি, কঠোর শাস্তি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। তাদের মতে, কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ খননকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পুকুর খনন, মাটি কাটা ও কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন, নাটোরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা, যন্ত্রপাতি জব্দ

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নাটোর সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের দত্তপাড়া পান মোকামের পাশে হিন্দুপাড়ায় কৃষিজমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ খনন কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ করে কঠোর বার্তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ১২টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে আবু তাহেরের ছেলে মো. বাবুকে পরিবেশ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের আলোকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি ব্যাটারি, ১টি স্যালো মেশিন এবং একটি ভেকুর যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় করিম হাজির জমিতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খননের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ আহমেদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও অংশ নেন।

প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের মাধ্যমে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে মাটি কেটে গভীর গর্ত তৈরির ফলে আশপাশের জমি ধসে যাওয়া, পানি নিষ্কাশনে সমস্যা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরিবর্তন এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ আহমেদ বলেন, “কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না। অবৈধভাবে পুকুর খনন, টপ সয়েল কাটা কিংবা পরিবেশ বিধ্বংসী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন করে আসছিলেন। এতে এলাকার ফসলি জমি কমে যাচ্ছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। প্রশাসনের এই অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অবৈধ খননের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষিপ্রধান জেলায় নির্বিচারে পুকুর খনন রোধে শুধু অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি, কঠোর শাস্তি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। তাদের মতে, কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ খননকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পুকুর খনন, মাটি কাটা ও কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।