ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

দমকা হাওয়ায় টিনশেড ঘর ধস, নলছিটিতে চাপা পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম পাওতা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঝালকাঠির নলছিটিতে আকস্মিক দমকা হাওয়ায় একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর ধসে নাফিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম পাওতা এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির নানা মোহাম্মদ নুর আলম ভূঁইয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রবাসী নয়ন মোল্লার স্ত্রী নাসরিন বেগম দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড কাঠের ঘরে নাফিয়া আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করেন তার নানা নুর আলম ভূঁইয়া।

এ সময় হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ঘরের টিনের চালা খুলে যেতে শুরু করে। সেটি ঠিক করতে নুর আলম ভূঁইয়া মাচায় ওঠেন। কিন্তু মুহূর্তেই প্রবল বাতাসে পুরো টিনশেড ঘরটি ধসে পড়ে। এতে ভাঙা টিন ও কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু নাফিয়া। আহত হন তার নানা।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান। কিন্তু ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ওঠা দমকা হাওয়া এতটাই প্রবল ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পরিত্যক্ত টিনশেডটি ধসে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘরটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা অপসারণ করা হয়নি।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফু আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে এ দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত স্থাপনা অপসারণে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এমন জরাজীর্ণ স্থাপনা অনেক সময়ই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে সতর্ক থাকতে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের এমন স্থাপনার কাছাকাছি না যেতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যেই এ মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও গ্রামীণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চার বছরের নিষ্পাপ শিশুর এমন মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পশ্চিম পাওতা এলাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

দমকা হাওয়ায় টিনশেড ঘর ধস, নলছিটিতে চাপা পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশের সময়ঃ ১১:১১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ঝালকাঠির নলছিটিতে আকস্মিক দমকা হাওয়ায় একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর ধসে নাফিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম পাওতা এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির নানা মোহাম্মদ নুর আলম ভূঁইয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রবাসী নয়ন মোল্লার স্ত্রী নাসরিন বেগম দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড কাঠের ঘরে নাফিয়া আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করেন তার নানা নুর আলম ভূঁইয়া।

এ সময় হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ঘরের টিনের চালা খুলে যেতে শুরু করে। সেটি ঠিক করতে নুর আলম ভূঁইয়া মাচায় ওঠেন। কিন্তু মুহূর্তেই প্রবল বাতাসে পুরো টিনশেড ঘরটি ধসে পড়ে। এতে ভাঙা টিন ও কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু নাফিয়া। আহত হন তার নানা।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান। কিন্তু ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ওঠা দমকা হাওয়া এতটাই প্রবল ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পরিত্যক্ত টিনশেডটি ধসে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘরটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা অপসারণ করা হয়নি।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফু আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে এ দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত স্থাপনা অপসারণে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এমন জরাজীর্ণ স্থাপনা অনেক সময়ই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে সতর্ক থাকতে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের এমন স্থাপনার কাছাকাছি না যেতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যেই এ মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও গ্রামীণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চার বছরের নিষ্পাপ শিশুর এমন মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পশ্চিম পাওতা এলাকা।