
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ৩২ শিশু ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। চিকিৎসকদের ভাষায়, ‘হামের প্রকোপ এখন উদ্বেগজনক’, আর জটিলতা নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের সংখ্যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৪ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন, আর একজন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ২০ শিশুর মৃত্যু জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।
সর্বশেষ মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে গৌরীপুর উপজেলার ৭ মাস বয়সী এক ছেলে শিশু সোমবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৪ মাস বয়সী এক মেয়ে শিশু সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে এবং নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার ৫ মাস বয়সী আরেক ছেলে শিশু রাত ১০টা ৩০ মিনিটে মারা যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শুধু হাম নয়, আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং হার্ট ফেইলিউরের মতো জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। এতে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। হাম মেডিকেল টিমের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, “শিশুরা অনেকেই জটিল অবস্থা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক। প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছে।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় চালু করা হয়েছে বিশেষ হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড। তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে দিনরাত চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান। তিনি বলেন, “চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।”
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকাদানে ঘাটতি, দেরিতে হাসপাতালে আনা এবং অপুষ্টি-এই তিন কারণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। তারা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত ও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
হামের বিস্তার ও শিশুমৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি এখন শুধু হাসপাতালের সংকট নয়, জনস্বাস্থ্য নিয়ে বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 



















