ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
ইউএনও’র বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও দায়িত্বে ফিরতে পারছেন না ইউপি চেয়ারম্যান

উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন এখনো দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান রিপন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত বছরের ২৬ মার্চ একটি মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং থানা ভাঙচুরের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কারাগারে থাকা অবস্থায় আরও চারটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খুরশেদ আলমকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

রিপন বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সব মামলায় জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পরদিনই তিনি ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে ইউএনওকে লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইডি প্রদানের আবেদন করেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।

তিনি আরও বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১৯ নভেম্বর মন্ত্রণালয় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়। এরপরও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে ২ এপ্রিল আদালত চার সপ্তাহের রুল জারি করে প্যানেল চেয়ারম্যানের কার্যক্রম স্থগিত এবং ইউএনওকে চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার নির্দেশ দেন। ১৯ এপ্রিল ইউএনও কার্যালয় ওই আদেশ গ্রহণ করলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন রিপন।

তিনি দাবি করেন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইডি না পাওয়ায় তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না, আর এই সুযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিপনের বড় ভাই জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, চেয়ারম্যান বহিষ্কৃত না হওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার আইনের ৩৩(২) ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে সক্ষম হলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অব্যাহত রাখার কোনো সুযোগ থাকে না।

অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম বলেন, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার নির্দেশ দিলে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

এদিকে ইউএনও কেএম মামুনুর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওপর বর্তায়। চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে ইতোমধ্যে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

ইউএনও’র বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও দায়িত্বে ফিরতে পারছেন না ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন এখনো দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান রিপন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত বছরের ২৬ মার্চ একটি মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং থানা ভাঙচুরের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কারাগারে থাকা অবস্থায় আরও চারটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খুরশেদ আলমকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

রিপন বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সব মামলায় জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পরদিনই তিনি ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে ইউএনওকে লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইডি প্রদানের আবেদন করেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।

তিনি আরও বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১৯ নভেম্বর মন্ত্রণালয় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়। এরপরও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে ২ এপ্রিল আদালত চার সপ্তাহের রুল জারি করে প্যানেল চেয়ারম্যানের কার্যক্রম স্থগিত এবং ইউএনওকে চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার নির্দেশ দেন। ১৯ এপ্রিল ইউএনও কার্যালয় ওই আদেশ গ্রহণ করলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন রিপন।

তিনি দাবি করেন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইডি না পাওয়ায় তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না, আর এই সুযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিপনের বড় ভাই জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, চেয়ারম্যান বহিষ্কৃত না হওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার আইনের ৩৩(২) ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে সক্ষম হলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অব্যাহত রাখার কোনো সুযোগ থাকে না।

অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম বলেন, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার নির্দেশ দিলে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

এদিকে ইউএনও কেএম মামুনুর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওপর বর্তায়। চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে ইতোমধ্যে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।