ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

হাওরের পানিতে তলিয়ে ১ হাজার বিঘা পাকা ধান- দুশ্চিন্তায় কৃষক

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হাওরে প্রায় ১ হাজার বিঘা জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।সংগৃহীত ছবি।

অকাল পানি আর টানা বর্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর হাওরে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার বিঘা পাকা বোরো ধান। কাটার অপেক্ষায় থাকা সোনালি ফসল ডুবে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। তবে পানি নেমে গেলে দ্রুত ধান কাটার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারা।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর হাওরাঞ্চলে। মোট আবাদকৃত ধানের প্রায় ৬০ শতাংশ কাটা হলেও বাকি ৪০ শতাংশ এখনো মাঠে রয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ধান-২৯, ব্রি-১০০, ব্রি-৯২, ব্রি-১০২, ব্রি-১০৮ ও ব্রি-৫৮ জাতের ধান রয়েছে বেশি।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে লঙ্গন, বেমালিয়া, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে হাওরে প্রবেশ করে। এতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় দেড় শ হেক্টর জমির পাকা ধান তলিয়ে যায়। বুধবারও অনেক স্থানে পানি জমে ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চোখে এখন শুধু শঙ্কা।গোয়ালনগরের কৃষক রহমান ভূইয়া বলেন, “নিজের জমি নাই, তিন বিঘা বর্গা নিয়ে চাষ করছি। আগেই ১৫ হাজার টাকা জমির মালিককে দিতে হয়েছে। এখন ধান ডুবে গেছে, কীভাবে লোকসান সামলাবো বুঝতে পারছি না।”

আরেক কৃষক হাসান মিয়া বলেন, “এই সময়ে হাওরে পানি আসার কথা না। এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি ছিল না। পানি না নামলে ধান পচে যাবে। এখন শুধু আল্লাহর ভরসা।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন এলাকায় হাওরের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের কারণে নাসিরনগর হাওরের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই নিচু জমি ডুবে যাচ্ছে, আবার অনেক সময় প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসাইন জানান, পানি নামলেই কৃষকরা ধান কাটতে নামবেন। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি নাও হতে পারে।”

এদিকে বুধবার বৃষ্টি কম থাকায় দু-এক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কৃষকদের আশঙ্কা- যদি পানি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে শুধু ফসল নয়, তাদের বছরের একমাত্র সম্বলও হারিয়ে যাবে।

হাওরের বুকজুড়ে এখন শুধু ডুবে থাকা ধান নয়, ভাসছে কৃষকের ঘাম, স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার লড়াই।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

হাওরের পানিতে তলিয়ে ১ হাজার বিঘা পাকা ধান- দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

অকাল পানি আর টানা বর্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর হাওরে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার বিঘা পাকা বোরো ধান। কাটার অপেক্ষায় থাকা সোনালি ফসল ডুবে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। তবে পানি নেমে গেলে দ্রুত ধান কাটার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারা।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর হাওরাঞ্চলে। মোট আবাদকৃত ধানের প্রায় ৬০ শতাংশ কাটা হলেও বাকি ৪০ শতাংশ এখনো মাঠে রয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ধান-২৯, ব্রি-১০০, ব্রি-৯২, ব্রি-১০২, ব্রি-১০৮ ও ব্রি-৫৮ জাতের ধান রয়েছে বেশি।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে লঙ্গন, বেমালিয়া, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে হাওরে প্রবেশ করে। এতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় দেড় শ হেক্টর জমির পাকা ধান তলিয়ে যায়। বুধবারও অনেক স্থানে পানি জমে ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চোখে এখন শুধু শঙ্কা।গোয়ালনগরের কৃষক রহমান ভূইয়া বলেন, “নিজের জমি নাই, তিন বিঘা বর্গা নিয়ে চাষ করছি। আগেই ১৫ হাজার টাকা জমির মালিককে দিতে হয়েছে। এখন ধান ডুবে গেছে, কীভাবে লোকসান সামলাবো বুঝতে পারছি না।”

আরেক কৃষক হাসান মিয়া বলেন, “এই সময়ে হাওরে পানি আসার কথা না। এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি ছিল না। পানি না নামলে ধান পচে যাবে। এখন শুধু আল্লাহর ভরসা।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন এলাকায় হাওরের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের কারণে নাসিরনগর হাওরের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই নিচু জমি ডুবে যাচ্ছে, আবার অনেক সময় প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসাইন জানান, পানি নামলেই কৃষকরা ধান কাটতে নামবেন। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি নাও হতে পারে।”

এদিকে বুধবার বৃষ্টি কম থাকায় দু-এক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কৃষকদের আশঙ্কা- যদি পানি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে শুধু ফসল নয়, তাদের বছরের একমাত্র সম্বলও হারিয়ে যাবে।

হাওরের বুকজুড়ে এখন শুধু ডুবে থাকা ধান নয়, ভাসছে কৃষকের ঘাম, স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার লড়াই।