ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

জ্বালানি তেল কালোবাজারি চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার ২

গতকাল বুধবার দুপুরে ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন থেকে মোজি ও হৃদয় কে গ্রেপ্তার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল কালোবাজারিতে বিক্রির চেষ্টার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। আলোচিত এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে দুইজনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তেল কালোবাজারি সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার খালে-আলমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন মোজি এবং সাহাসপুর গ্রামের জাকির আজমের ছেলে মো. রাশেদুল ইসলাম হৃদয়। এর মধ্যে সাখাওয়াত ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল লতিফের ছোট ভাই হওয়ায় ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ভোলাহাট থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান,সোমবার গভীর রাতে ভোলাহাট থানার নামে বরাদ্দ ৮ হাজার লিটার ডিজেল গোপনে কালোবাজারে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় পুলিশ। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ডিজেলবোঝাই ট্যাংকলরি জব্দ করা হয়। তবে সে সময় জড়িতরা পালিয়ে যায়।পরদিন মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে বুধবার অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনের নামে বরাদ্দ তেলবোঝাই ট্যাংকলরিটি স্থানীয় একটি ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে প্লাস্টিকের ড্রাম ও কন্টেইনারে তেল নামিয়ে কালোবাজারে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ট্যাংকলরি, নসিমন, ট্রলি, চার্জার ভ্যান এবং অর্ধশতাধিক ড্রাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সংঘবদ্ধ জ্বালানি সিন্ডিকেটের কারবার। ওসি আব্দুল বারিক বলেন,“গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যে তেল কালোবাজারির প্রমাণ মিলেছে। আরও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যচাপের সময় সরকারি বরাদ্দের তেল কালোবাজারিতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল বলছে, এমন চক্র ভেঙে না দিলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের কালোবাজারি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের শামিল।এলাকাবাসীর দাবি, শুধু দু’জন গ্রেপ্তারে দায় শেষ নয়, এর পেছনে থাকা মূল হোতা ও পুরো তেল পাচার সিন্ডিকেট উন্মোচন করতে হবে।

ভোলাহাটে ইটভাটার অন্ধকারে ধরা পড়া ডিজেল কারবার এখন শুধু কালোবাজারির মামলা নয়- এটি জ্বালানি খাতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সিন্ডিকেট বাণিজ্যের বড় ইঙ্গিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

জ্বালানি তেল কালোবাজারি চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল কালোবাজারিতে বিক্রির চেষ্টার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। আলোচিত এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে দুইজনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তেল কালোবাজারি সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার খালে-আলমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন মোজি এবং সাহাসপুর গ্রামের জাকির আজমের ছেলে মো. রাশেদুল ইসলাম হৃদয়। এর মধ্যে সাখাওয়াত ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল লতিফের ছোট ভাই হওয়ায় ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ভোলাহাট থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান,সোমবার গভীর রাতে ভোলাহাট থানার নামে বরাদ্দ ৮ হাজার লিটার ডিজেল গোপনে কালোবাজারে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় পুলিশ। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ডিজেলবোঝাই ট্যাংকলরি জব্দ করা হয়। তবে সে সময় জড়িতরা পালিয়ে যায়।পরদিন মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে বুধবার অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনের নামে বরাদ্দ তেলবোঝাই ট্যাংকলরিটি স্থানীয় একটি ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে প্লাস্টিকের ড্রাম ও কন্টেইনারে তেল নামিয়ে কালোবাজারে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ট্যাংকলরি, নসিমন, ট্রলি, চার্জার ভ্যান এবং অর্ধশতাধিক ড্রাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সংঘবদ্ধ জ্বালানি সিন্ডিকেটের কারবার। ওসি আব্দুল বারিক বলেন,“গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যে তেল কালোবাজারির প্রমাণ মিলেছে। আরও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যচাপের সময় সরকারি বরাদ্দের তেল কালোবাজারিতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল বলছে, এমন চক্র ভেঙে না দিলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের কালোবাজারি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের শামিল।এলাকাবাসীর দাবি, শুধু দু’জন গ্রেপ্তারে দায় শেষ নয়, এর পেছনে থাকা মূল হোতা ও পুরো তেল পাচার সিন্ডিকেট উন্মোচন করতে হবে।

ভোলাহাটে ইটভাটার অন্ধকারে ধরা পড়া ডিজেল কারবার এখন শুধু কালোবাজারির মামলা নয়- এটি জ্বালানি খাতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সিন্ডিকেট বাণিজ্যের বড় ইঙ্গিত।