
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় জড়িত ০২ জন পেশাদার চোর ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ। এসময় চোরাই যাওয়া নগদ ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে মুক্তাগাছা থানার বিরাশি এলাকায় একটি বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল আলম (২৬) জানান, জমি কেনার উদ্দেশ্যে ব্যবসার উপার্জিত ৩৫ লাখ টাকা গ্রামের বাড়িতে তার মায়ের শয়নকক্ষের স্টিলের ট্যাংকের ভেতরে রাখা ছিল। ঘটনার সময় তার মা প্রতিবেশীর বাড়িতে গেলে দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজার তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্টিলের ট্যাংকের তালা ভেঙে নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তাগাছা থানায় মামলা নং-১৮, তারিখ ১৩/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহের দিকনির্দেশনায় এবং মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একাধিক চৌকস টিম গঠন করা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও এনালগ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ১। সৌরভ মিয়া (৩০), পিতা-মো. সিরাজুল, সাং- বিরাশি (মধ্যপাড়া), থানা-মুক্তাগাছা, জেলা-ময়মনসিংহ। ২। মো. জনি (২৫), পিতা-মো. আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়া, সাং- বিরাশি (মধ্যপাড়া), থানা-মুক্তাগাছা, জেলা-ময়মনসিংহ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার চর কুষ্টিয়া এলাকায় আসামি সৌরভের খালার গোয়ালঘরের মাচার নিচ থেকে আরও ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মোট ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চোরাই যাওয়া অবশিষ্ট টাকা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 



















