
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর হরমোন ও নিষিদ্ধ ওষুধের ব্যবহার ঠেকাতে গৌরনদীতে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। অভিযানে দুটি ফার্মেসিকে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় দালালবিরোধী অভিযান ও রেবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধনও করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন পশু ওষুধের দোকান ও ফার্মেসিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গৌরনদী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পলাশ সরকার পিএএ, ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মাহমুদুল হাসান ফরিদ, গৌরনদী মডেল থানার এএসআই মোঃ রফিকুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা।
অভিযানকালে মদিনা ফার্মেসি ও খান ফার্মেসিতে ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধের দোকান পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়, যাতে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর হরমোন বা নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি না করা হয়।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত পশু মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করলে পশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব ওষুধ ব্যবহারে কিডনি, লিভার ও হরমোনজনিত নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তারা।
এদিকে একই দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে দুই বহিরাগতকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাসপাতাল এলাকায় দালালচক্রের কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। সাধারণ রোগীদের হয়রানি বন্ধ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেবিস প্রতিরোধী “রেবিক্স” ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফকরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান আকবারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতিবছর বহু মানুষের মৃত্যু হয়। সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এ রোগ শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে সহজলভ্যভাবে রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় দালালমুক্ত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।
সৈয়দ নুর আহছান, বরিশাল 



















