ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হাম নিয়ন্ত্রণে আরও ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা, বললেন তাপস রায় মহাখালী থেকে চুরি হওয়া এনা পরিবহণের বাস মিরপুর বেড়িবাঁধে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবার দ্বিতীয় টেস্ট, ম্যাকাইয়ে অচেনা ভেন্যুর পরীক্ষায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু, অনুমোদনের জন্য ১১ প্রকল্প ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে প্রাইভেটকার, আহত ২ বেগমগঞ্জে ১২ দিনে ৮ জনকে গুলি, এখনো অধরা অস্ত্রধারীরা কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ- ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি
পানির নিচে বোরো ধান

পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটে নতুন করে প্লাবিত ৫ গ্রাম

উপজেলার রান্ধুনীকুড়া এলাকার ছবি। সংগৃহীত ছবি।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজলো নতুন করে আরও পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান, যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও দর্শা ও গাংগিনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া, ঘিলাভুই ও সংরা এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনিকান্দা ও বোয়ালমারা গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে।

নিচু এলাকার বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর থেকে বের হতে না পেরে মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে হালুয়াঘাট উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির ধান এখন পানির নিচে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে এসব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, “ধারদেনা করে ৭৫ শতক জমিতে ধান চাষ করেছি। কাটার আগেই সব পানির নিচে চলে গেছে। আরও কয়েকদিন পানি থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”

গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনিকান্দা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “এই বোরো ধানই আমাদের পরিবারের প্রধান ভরসা। হঠাৎ ঢলে সব তলিয়ে যাওয়ায় এখন কীভাবে সংসার চলবে, সেই চিন্তায় আছি।”

জুগলী এলাকার বিএডিসি সেচ পাম্পের ব্যবস্থাপক নুর ইসলাম জানান, শুধু রান্ধুনীকুড়া এলাকাতেই প্রায় ১০০ একর জমির ধান পানিতে ডুবে আছে। অনেক কৃষক এখনো একটি জমির ধানও কাটতে পারেননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজখবর রাখছেন। তিনি জানান, নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম নিয়ন্ত্রণে আরও ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

পানির নিচে বোরো ধান

পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটে নতুন করে প্লাবিত ৫ গ্রাম

প্রকাশের সময়ঃ ০২:২২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজলো নতুন করে আরও পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান, যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও দর্শা ও গাংগিনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া, ঘিলাভুই ও সংরা এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনিকান্দা ও বোয়ালমারা গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে।

নিচু এলাকার বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর থেকে বের হতে না পেরে মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে হালুয়াঘাট উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির ধান এখন পানির নিচে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে এসব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, “ধারদেনা করে ৭৫ শতক জমিতে ধান চাষ করেছি। কাটার আগেই সব পানির নিচে চলে গেছে। আরও কয়েকদিন পানি থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”

গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনিকান্দা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “এই বোরো ধানই আমাদের পরিবারের প্রধান ভরসা। হঠাৎ ঢলে সব তলিয়ে যাওয়ায় এখন কীভাবে সংসার চলবে, সেই চিন্তায় আছি।”

জুগলী এলাকার বিএডিসি সেচ পাম্পের ব্যবস্থাপক নুর ইসলাম জানান, শুধু রান্ধুনীকুড়া এলাকাতেই প্রায় ১০০ একর জমির ধান পানিতে ডুবে আছে। অনেক কৃষক এখনো একটি জমির ধানও কাটতে পারেননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজখবর রাখছেন। তিনি জানান, নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।