ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
ময়মনসিংহ

রঙ বদলিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, ‘ফ্রিডম মানিক’সহ আটক ৩

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ভোর ৪টা ৫ মিনিটে গৌরীপুর উপজেলার সতিষা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ফ্রিডম মানিককে গ্রেফতার করা হয়।

ময়মনসিংহ নগরীতে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নগরীর হেরা মার্কেট এলাকা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ ২৮ মামলার কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর ‘ফ্রিডম মানিক’ ওরফে ‘চোরা মানিক’-সহ তিন সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ময়মনসিংহ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— গৌরীপুর উপজেলার সতিষা এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান মানিক চৌধুরী (৩৯), যিনি এলাকায় ‘ফ্রিডম মানিক’ বা ‘চোরা মানিক’ নামে পরিচিত। এছাড়া শাহবাজপুর এলাকার সোহেল মিয়া (২৩) এবং পালান্দর এলাকার আশিক মিয়া (২৭)।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ভোর ৪টা ৫ মিনিটে গৌরীপুর উপজেলার সতিষা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ফ্রিডম মানিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে সোহেল ও আশিককে আটক করা হয়। একই সময়ে উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে আলামিন শরীফ সিফাত তার ব্যবহৃত নীল রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ময়মনসিংহ নগরীর হেরা মার্কেটের সামনে পার্কিং করে মার্কেটের ওয়াশরুমে যান। কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে তিনি মোটরসাইকেলটি খুঁজে না পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ চোরচক্রটি অত্যন্ত কৌশলে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে দ্রুত সেটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ফুটেজে চোরদের মুখ স্পষ্ট না থাকলেও পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পিবিআই জানায়, অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অস্পষ্ট ভিডিও থেকে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করে তাদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়।

এছাড়া মোবাইল কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফ্রিডম মানিকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চোরচক্রটি মোটরসাইকেল চুরির পর দ্রুত তার রঙ পরিবর্তন করে ফেলে যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির মূল নীল রঙ পরিবর্তন করে কালো করা হয়েছিল। এ কাজে সহযোগিতা করেন আটক সোহেল মিয়া। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোটরসাইকেলটি বিক্রির প্রস্তুতির কথাও স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি পিবিআইয়ের জিম্মায় রয়েছে। শুক্রবার গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেফতার ফ্রিডম মানিকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোটরসাইকেল চুরি, চোরাই মালামাল কেনাবেচা ও প্রতারণাসহ অন্তত ২৮টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে রঙ পরিবর্তন ও কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, তার গ্রেফতারের মাধ্যমে একটি বড় মোটরসাইকেল চোরচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,“তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অপরাধীদের শনাক্ত করা এখন অনেক সহজ হচ্ছে। ভবিষ্যতেও মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, নগরবাসীকে মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক থাকতে হবে এবং নিরাপদ স্থানে যানবাহন রাখার পাশাপাশি উন্নত লক ব্যবহারের পরামর্শ দেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

ময়মনসিংহ

রঙ বদলিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, ‘ফ্রিডম মানিক’সহ আটক ৩

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ময়মনসিংহ নগরীতে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নগরীর হেরা মার্কেট এলাকা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ ২৮ মামলার কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর ‘ফ্রিডম মানিক’ ওরফে ‘চোরা মানিক’-সহ তিন সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ময়মনসিংহ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— গৌরীপুর উপজেলার সতিষা এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান মানিক চৌধুরী (৩৯), যিনি এলাকায় ‘ফ্রিডম মানিক’ বা ‘চোরা মানিক’ নামে পরিচিত। এছাড়া শাহবাজপুর এলাকার সোহেল মিয়া (২৩) এবং পালান্দর এলাকার আশিক মিয়া (২৭)।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ভোর ৪টা ৫ মিনিটে গৌরীপুর উপজেলার সতিষা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ফ্রিডম মানিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে সোহেল ও আশিককে আটক করা হয়। একই সময়ে উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে আলামিন শরীফ সিফাত তার ব্যবহৃত নীল রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ময়মনসিংহ নগরীর হেরা মার্কেটের সামনে পার্কিং করে মার্কেটের ওয়াশরুমে যান। কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে তিনি মোটরসাইকেলটি খুঁজে না পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ চোরচক্রটি অত্যন্ত কৌশলে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে দ্রুত সেটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ফুটেজে চোরদের মুখ স্পষ্ট না থাকলেও পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পিবিআই জানায়, অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অস্পষ্ট ভিডিও থেকে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করে তাদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়।

এছাড়া মোবাইল কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফ্রিডম মানিকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চোরচক্রটি মোটরসাইকেল চুরির পর দ্রুত তার রঙ পরিবর্তন করে ফেলে যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির মূল নীল রঙ পরিবর্তন করে কালো করা হয়েছিল। এ কাজে সহযোগিতা করেন আটক সোহেল মিয়া। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোটরসাইকেলটি বিক্রির প্রস্তুতির কথাও স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি পিবিআইয়ের জিম্মায় রয়েছে। শুক্রবার গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেফতার ফ্রিডম মানিকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোটরসাইকেল চুরি, চোরাই মালামাল কেনাবেচা ও প্রতারণাসহ অন্তত ২৮টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে রঙ পরিবর্তন ও কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, তার গ্রেফতারের মাধ্যমে একটি বড় মোটরসাইকেল চোরচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,“তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অপরাধীদের শনাক্ত করা এখন অনেক সহজ হচ্ছে। ভবিষ্যতেও মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, নগরবাসীকে মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক থাকতে হবে এবং নিরাপদ স্থানে যানবাহন রাখার পাশাপাশি উন্নত লক ব্যবহারের পরামর্শ দেন তদন্ত কর্মকর্তারা।