
রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা তিন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও বিস্ফোরক সদৃশ গান পাউডার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার মামলা নং-২৫, তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০২৫; জিআর নং-৫৫৮/২০২৫ এর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এস.এম রাসেল কবির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন কয়েকজন আসামি ঢাকার শাহবাগ থানাধীন এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে গত ১৫ মে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে শাহবাগের মৎস্য ভবন মোড় এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১. মোঃ রাব্বি (২৬), পিতা-মৃত শহিদ, ফকিরপাড়া, ২. মোঃ সোহেল ওরফে জিনজিরা (৩০), পিতা-মৃত মনিরুল ইসলাম মনির, ফকিরপাড়া,৩. মোঃ সুমিত ওরফে আলিফ (২৪), পিতা-সুমন, প্রফেসরপাড়া, সকলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায়।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটের মাধ্যমে জানায়, ঢাকায় গ্রেফতারের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফেরার পথে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করে যে, সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের নীল কুঠির মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে তারা নিয়মিত অবস্থান করত এবং সেখানে মাদক ও বিস্ফোরক সদৃশ পদার্থ মজুদ রাখা হয়েছে।
এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে রাতেই সদর মডেল থানার মোবাইল টিম-০১ ও মোবাইল টিম-০২ এর সদস্যদের নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে বারঘরিয়া থেকে গোয়ালবাড়ী যাওয়ার পাকা রাস্তার উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত ভবনে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানকালে আসামি রাব্বির দেখানো মতে একটি লাল-সাদা রঙের শপিং ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয়-দুই কেজি বিস্ফোরক সদৃশ গান পাউডার, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা।১৫০ গ্রাম কথিত হেরোইন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে ছিল সাদা ও কাঠালী রঙের গান পাউডার এবং হালকা ও গাঢ় বাদামি রঙের হেরোইন সদৃশ মাদকদ্রব্য। পরে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে জব্দ তালিকার মাধ্যমে আলামত জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা নং-৩২, তারিখ ১৬ মে ২০২৬, জিআর নং-২১৬/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইন (সংশোধনী ২০০২) এর ৪/৬ ধারা এবং ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর সারণির ৮(গ)/৪১ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য এবং তাদের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও মাদকের উৎস, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরিত্যক্ত ভবনে দীর্ঘদিন ধরে এমন বিপজ্জনক মাদক ও বিস্ফোরক মজুদের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















