ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
নোয়াখালীতে

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ- কার্যালয় ও মোটরসাইকেলে আগুন

সংগৃহীত ছবি।

“নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি আকস্মিক বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র  জানিয়েছে।”

শনিবার (৬ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি মোটরসাইকেল এবং একটি বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আগের দিনের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার বিকেলে পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিম, নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের এক নেতা এবং উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে একটি মোটরসাইকেল এবং একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা ও প্রতিপক্ষকে ঘিরে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা সহিংসতার পরিবর্তে রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঘটনার বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

নোয়াখালীতে

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ- কার্যালয় ও মোটরসাইকেলে আগুন

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

“নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি আকস্মিক বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র  জানিয়েছে।”

শনিবার (৬ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি মোটরসাইকেল এবং একটি বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আগের দিনের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার বিকেলে পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিম, নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের এক নেতা এবং উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে একটি মোটরসাইকেল এবং একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা ও প্রতিপক্ষকে ঘিরে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা সহিংসতার পরিবর্তে রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঘটনার বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।